• রবিবার, মে ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ সকাল

শরীফের জবানবন্দি: নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার সময় মাদ্রাসা পাহারা দিচ্ছিল তারা

  • প্রকাশিত ১১:০১ সকাল এপ্রিল ১৮, ২০১৯
নুসরাত হত্যা
বুধবার ( ৭ এপ্রিল ) রাত দশটা পর্যন্ত ফেনীর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য দিয়েছে নুসরাত হত্যার মামলার অন্যতম আসামি আব্দুর রহিম শরিফ। ঢাকা ট্রিবিউন

আগুন লাগানো নিশ্চিত হলে পাহারা ছেড়ে দেয় তারা

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার সময় মাদ্রাসার গেট পাহারা দিচ্ছিল আব্দুর রহিম প্রকাশ শরীফসহ সাত জন। এরপর আগুন লাগানো নিশ্চিত হলে পাহারা ছেড়ে দেয় তারা।

বুধবার ( ৭ এপ্রিল ) রাত দশটা পর্যন্ত ফেনীর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য দিয়েছেন নুসরাত হত্যার মামলার অন্যতম আসামি আব্দুর রহিম শরিফ।

দুপুর আড়াইটা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শারাফ উদ্দিন আহমদের আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্টদিতে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন (৬ এপ্রিল ) সকাল সাড়ে আটটা থেকে আগুন দেওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসার গেইটে তারা পাহারায় বসে ছিলো। এর আগের রাতে মাদ্রাসার পাশের পশ্চিম হোস্টেলে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শামীমের নির্দেশনা মোতাবেক তারা এই দায়িত্ব পালন করে তারা। 

ফেনী পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান এমন তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নুসরাত হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি আব্দুর রহিম শরীফকে বুধবার ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় । 

শরীফ স্বীকারোক্তিতে আরো বলেন, নূর উদ্দিনের নেতৃত্বে হাফেজ আবদুল কাদেরসহ মোট সাতজন গেইটে ঘটনার আগ থেকে ছিল ।পরিকল্পনা মোতাবেক শাহদাত হোসেন শামীম সহ পাঁচ জন সাইক্লোন নুসরাতের শরীরে কেরাসীন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর শরীফ নুর উদ্দিনের নির্দেশে যে যার মত করে চলে যায় ।

তবে পিবিআইয়ের অপর একটি সূএ জানায়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শরীফ নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তার জবানবন্দি অনুযায়ী, অধ্যক্ষ সিরাজ উল্ল্যাহকে যৌন নির্যাতনের মামলা দিয়ে দেশের আলেম সমাজকে হেয় করায় তারা নুসরাতকে যে কোন কঠিন সাজা দিতে শপথ নিয়েছিলেন। 

আলোচিত এ মামলা এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। এদের মধ্যে ওই অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠি আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, জান্নাতুল আফরোজ মনি ও শরিফুল ইসলাম ওরফে শরিফ। এদের মধ্যে মামলার এজহারভুক্ত আট জনের মধ্যে ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এদিকে রবিবার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় মামলার অন্যতম আসামী নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামিম। 

এর আগে ১০ এপ্রিল টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রাত নয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যায় অগ্নিদগ্ধ নুসরাত। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে বিকালে সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।