• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ দুপুর

'নুসরাতের ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ছিল'

  • প্রকাশিত ১০:৪৯ রাত এপ্রিল ১৮, ২০১৯
পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল
ফেনীর সোনাগাজীতে ডিআইজি রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

'২৭ তারিখের যৌন হয়রানির ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, ম্যানেজিং কমিটি যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত'

প্রাথমিকভাবে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসিসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন এ বিষয়ক তদন্ত কমিটির প্রধান এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. রুহুল আমীন। বৃহস্পতিবার বিকালে দুই দিন ধরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, "প্রাথমিকভাবে নুসরাতের ঘটনায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসির ত্রুটি বিচ্যুতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওসি সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাফিলতির বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে কারণ ২৭ তারিখের যৌন হয়রানির ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, ম্যানেজিং কমিটি যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত"।

ডিআইজি মো. রুহুল আমীন আরো বলেন, "তদন্ত কার্যক্রম শেষ হতে আরো তিন-চার দিন সময় লাগতে পারে। নথিপত্র যাচাই-বাচাই চলছে। এই মামলাটি একটি বড় ঘটনা, তাই কিছুটা সময় লাগবে"।

"আগে থেকেই অধ্যক্ষ সিরাজের অনেক খারাপ হিস্ট্রি রয়েছে। এই ব্যাপারটি গভর্নিং বডির সদস্যরাও জানতেন। যদি তার ব্যপারে আগে ব্যবস্থ্যা নেয়া হতো তাহলে আজকে এ ধরণের ঘটনা ঘটতো না। এই ঘটনার সাথে স্থানীয় রাজনীতির বিষয়ও জড়িত রয়েছে। একই দলের দুইজন কাউন্সিলর অধ্যক্ষের পক্ষে বিপক্ষে মানববন্ধন করেছে। প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। সাক্ষ্যগ্রহন চলছে পুরোপুরি তদন্ত শেষে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীদের আনুষ্ঠানিক জানানো হবে", যোগ করেন তিনি।

এর আগে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে গত বুধবার ঐ মাদ্রাসার শিক্ষকদের সাথে কথা বলে ঘটনা সম্পর্কে তাদের মতামত গ্রহণ করে পুলিশ সদর দপ্তরের এই তদন্তদল। পরে তারা নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। বৃহস্পতিবারও তারা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য, রাফির পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মচারীদের মতামত গ্রহণ করেন।

ডিআইজি মো. রুহুল আমীনের নেতৃত্বে এই তদন্তদলে রয়েছেন একজন পুলিশ সুপার (এসপি) , দু'জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ও একজন পরিদর্শক এই তদন্তদলে রয়েছেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারির নির্দেশে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল শুক্রবার মানবাধিকার কমিশনের একটি তদন্ত দল তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নিলে হয়তো নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা এড়ানো যেত। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন দায় এড়াতে পারেনা।