• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

নুসরাত হত্যাকাণ্ড: সোনাগাজী আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ডেকেছে পিবিআই

  • প্রকাশিত ০৬:৩২ সন্ধ্যা এপ্রিল ১৯, ২০১৯
ফেনী রুহুল আমিন
সোনাগাজী আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন। ছবি: সংগৃহীত

নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর রুহুল আমিন ফোনে বলেন, ‘‘আমি জানি, তোমরা পালিয়ে যাও।’ ’

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি ও পুড়িয়ে হত্যার মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৫ টার দিকে তাকে ফোন করে পিবিআইয়ের জেলা কার্যালয়ে ডাকা হয়। 

সে অনুযায়ী রুহুল তার সোনাগাজি উপজেলা সদরের কলেজ রোডের বাড়ি থেকে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ফেনী পিবিআই কার্যালয়ে যান। 

নুসরাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক শাহ আলম জানান, গত রবিবার (১৪ এপ্রিল) মামলার অন্যতম দুই আসামি নূরউদ্দিন এবং শাহাদাত হোসেন শামীম আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরও অন্তত ১২ জন জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছিল। তাদের মধ্যে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের নামও রয়েছে। 

তিনি আরও জানান, বাকিদের বেশিরভাগই ওই মাদ্রাসার আলিম ও ফাজিল শ্রেণির শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামিসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিতে নুসরাত গায়ে আগুন দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে পালানোর পর হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দেওয়া শাহাদাত হোসেন শামীম প্রথম ফোন করেন রুহুল আমিনকে। তখন রুহুল আমিন বলেন, ‘‘আমি জানি, তোমরা পালিয়ে যাও।’ ’

শুধু তাই নয়, রুহুল আমিনের সহযোগী পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম আগুন দিতে খুনিদের ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন। আর কারাগার থেকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে ছিলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। 

নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম দুই আসামি নুরুদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের দেয়া জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

পিবিআইয়ের ফেনীর দায়িত্বরত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নূরউদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামীম অনেক তথ্য দিয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে তারা হত্যার পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। অন্য যাদের নাম পাওয়া গেছে সেগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে রুহুল আমীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।