• বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩ রাত

নুসরাত হত্যাকাণ্ড: আসামি মনিকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের অভিযান

  • প্রকাশিত ০৯:১৬ রাত এপ্রিল ১৯, ২০১৯
ফেনী মনি
নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মনিকে নিয়ে পুলিশের অভিযান। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

যেখান থেকে মনি বোরকা কিনেছিল সেখানেও অভিযান চালায় পিবিআই।

েনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা আসামি কামরুন নাহার মনিকে নিয়ে ফেনীর সোনাগাজীতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর একটি তদন্ত দল। 

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বেলা বারোটায় অভিযানের শুরুতে উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় মানিক মিঞা প্লাজায় মনিকে নিয়ে যে দোকান থেকে বোরকা কেনা হয়েছে সেখানে যান তারা। পরে তাকে নিয়ে নুসরাতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনাগাজি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যায় পুলিশ। 

এদিকে, নুসরাত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে শুক্রবার থেকে ফেনীতে এসেছেন পাঁচ সদস্যের আরেকটি তদন্তকারী দল। শনিবার (২০ এপ্রিল) তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা ছাড়াও নুসরাতের মাদ্রাসা ও বাড়িতে যাবেন বলে জানিয়েছেন সোনাগাজী থানার ওসি কামাল হোসেন।    

এছাড়া, নুসরাত হত্যার ঘটনায় অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখছে সিআইডির একটি বিশেষ টিম। 

এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পিবিআইয়ের তদন্ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল। তার নেতৃত্বে এই টিমে রয়েছেন পাঁচ সদস্যের একটি দল। 

পিবিআই-এর একটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, নুসরাতকে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে যে সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে নিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়েছিল বিকেল চারটার দিকে মনিকে নিয়ে সেখানে যান তদন্ত দলের প্রধান পিবিআই-এর বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ  ইকবাল। এর আগে যেখান থেকে মনি বোরকা কিনেছিল সেখানেও অভিযান চালায় পিবিআই।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই-এর বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, আরও বেশ কিছু জায়গা রয়ে গেছে যেগুলোতে মনিকে নিয়ে যাকে তদন্ত দল। মামলাটির তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত মন্তব্যের সময় আসেনি। 

সূত্র জানায়, নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন কামরুন নাহার মনি। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফউদ্দিন আহমেদের আদালত তার রিমান্ড আদেশ দেন। 

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে মনিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে আটক করা হয়।

এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি নূরউদ্দিন রবিবার (১৪ এপ্রিল) রাতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছিল, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী উম্মে সুলতানা পপি গিয়ে নুসরাতকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। ওই সময় ছাদে মনি ছিল। মনিসহ নুসরাত হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। এদের মধ্যে এজাহারভুক্ত আটজন, বাকিরা সন্দেহভাজন।

প্রসঙ্গত, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে তাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।