• শনিবার, জুলাই ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫২ সকাল

১৩ বছরের ব্যবধানে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবা-ছেলে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত

  • প্রকাশিত ১২:৩৬ দুপুর এপ্রিল ১৯, ২০১৯
বন্দুকযুদ্ধ
প্রতীকী ছবি

নিহত রাফিদ আনাম স্বর্গ'র বাবা লিয়াকত আলী ২০০৬ সালে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছিলেন। তিনিও বগুড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। 

বগুড়া শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী রাফিদ আনাম স্বর্গ (২৫) কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে শহরের ধরমপুর এলাকায় ধুন্দল সেতুর দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে সুবিল খালের পাড়ে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের সময়ে তিনি নিহত হন। 

পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, রাফিদ আনাম স্বর্গ বগুড়া শহরের খান্দার আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন এলাকার মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে। লিয়াকত আলী বগুড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তিনি ২০০৬ সালে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছিলেন। 

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে বগুড়া শহরের ধরমপুর ধুন্দল সেতুর দক্ষিণ পশ্চিম পাশে সুবিল খাল পড়ে সন্ত্রাসীদের মাঝে গোলাগুলি বিনিময় চলছিল। শব্দ পেয়ে পুলিশের টহল দল সেখানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুস্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। সেখানে গুরুতর অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশী ৭.৬২ ক্যালিবারের পিস্তল ও একটি বার্মিজ চাকু পড়েছিল। তিনি (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) ও সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

হাসপাতালে উপস্থিত লোকজন নিহতকে খান্দারের ‘স্বর্গ’ হিসেবে সনাক্ত করেন। তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর থানায় হত্যা, অস্ত্র আইন, চাঁদাবাজিসহ সাতটি মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিকালে স্বর্গ শাজাহানপুরের জামাদারপুকুর ও শহরের খান্দার, মালগ্রাম এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলে অভিযোগ ছিল। স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, স্বর্গের মৃত্যুতে ওইসব এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। এ ব্যাপারে সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানায়, স্বর্গ ছোট থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় প্রোগ্রেস কোচিং সেন্টারের মালিকানা নিয়ে বিরোধে ২০১১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের ভাগ্নে শরিকুল ইসলামকে হত্যা করে স্বর্গ। ২০১২ সালের ১২ জুন এলাকায় একটি চিত্ত বিনোদন অনুষ্ঠানে স্বর্গের চাচা সন্ত্রাসী আশরাফ আলীর সাথে বাকবিতন্ডায় খুন হন সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ছাত্র নিরঞ্জন চক্রবর্তী দিপু। স্বর্গ এ মামলার আসামী ছিলেন। গত সাত বছরে মামলার সাক্ষ্য শুরু হয়নি। 

স্বর্গ প্রায় সাড়ে ৩ মাস আগে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পান। প্রভাবশালীরা তাকে হত্যার কাজে ব্যবহার করার জন্য জামিনে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ১৪ এপ্রিল নববর্ষের রাতে বগুড়ার নিশিন্দারা উপশহরে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম শাহীন খুন হন। অভিযোগ রয়েছে, স্বর্গ ভাড়াটে খুনি হিসেবে এ হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল। তবে জেল থেকে বের হবার পর সে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সমাজসেবামুলক কাজে জড়িত থেকে ভালো হবার দাবি করেছিল।