• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

রানা প্লাজা ট্রাজেডি: ৬ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

  • প্রকাশিত ১১:৩৫ সকাল এপ্রিল ২৪, ২০১৯
রানা প্লাজা
সৈয়দ জাকির হোসাইন/ঢাকা ট্রিবিউন

সম্প্রতি অ্যাকশন এইডের এক জরিপে উঠে এসেছে,  এ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৫১ ভাগ শ্রমিক এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে কাজ করতে সক্ষম নন

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ৬ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল নয়তলা ভবনটি ধসে পড়ায় প্রাণ হারান ১১৩৮ জন। সেসময় ভবন ধসে মোট চারটি মামলা করা হলেও কেবল দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) সম্পদের তথ্য গোপন করা সংক্রান্ত মামলার রায় হয়েছে। ভবন নির্মাণের দুর্নীতি মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। 

এর মধ্যে কেবল দুদকের ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলাটির বিচার চলছে ও রায় হয়েছে সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা। তবে ঝুলে রয়েছে হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের মামলার কার্যক্রম।

ভবনটি ধসে পড়ার পরদিন সাভারথানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ ভবন নির্মাণে ‘অবহেলা ও ত্রুটিজনিত হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।

২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় অভিযোগ পত্রে৫৯৪ জনকে সাক্ষী করা হয়।আসামি ৪১ জনেরমধ্যে আবু বক্কর সিদ্দিক ও আবুল হোসেন মারা যান। দুজন বাদে বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৩৯ জন। ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করলেও এখন পর্যন্ত একজনেরও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি।

মামলাটিতে মোট আসামির সংখ্যা ৪১ জন। ২ জন মারা গেছে, বাকি ৩২ জন আসামি রয়েছে জামিনে । এদের মধ্যে ৭ জন পলাতক। বর্তমানে শুধু রানা কারাগারে রয়েছে।

আইন না মেনে ভবন নির্মাণ করায় রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন ওইদিন ইমারত নির্মণ আইনে সাভার থানায় আরেকটি মামলা করেন। ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ভবনের মালিক সোহেল রানাসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৩০ জনকে মামলার সাক্ষী করা হয়।

ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান ২০১৬ সালের ১৪ জুন  আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।  তবে এখন পর্যন্ত একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। 

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পরপরই ভবন নির্মাণে দুর্নীতির অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছয় তলার জন্য অনুমোদন নিয়ে ৮ তলা হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল রানাপ্লাজাকে। এই ২০১৩ সালের ১৫ জুন একটি মামলা দায়ের করে দুদক। বর্তমানে মামলাটির একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।  আগামী ২ মে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। 

ভবন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে ১১টি মামলা দায়ের করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর। সবগুলো মামলাই বিচারাধীন রয়েছে।

সম্প্রতি অ্যাকশন এইডের এক জরিপে উঠে এসেছে রানা প্লাজার  দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৫১ ভাগ মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে কাজ করতে সক্ষম নন। জরিপটিতে বলা হচ্ছে দুইবছর আগেও দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে ৪২ শতাংশ চাকরিহীন অবস্থায় ছিলেন। 

রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের মধ্যে ২০ দশমিক ৫০ শতাংশের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এ ছাড়া শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার কারণে ৫১ শতাংশ আহত শ্রমিক কাজ করতে পারছেন না। এই কাজ করতে না পারাদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ শারীরিক দুর্বলতা এবং ২৭ শতাংশ মানসিক দুর্বলতার কারণে কাজ করতে পারছেন না।