• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

রিংওয়েল থেকে পানি নেওয়ায় নারীকে মাদ্রাসা পরিচালকের মারধর (ভিডিও)

  • প্রকাশিত ০৬:৫২ সন্ধ্যা এপ্রিল ২৫, ২০১৯
বান্দরবান
বান্দরবানে মাদ্রাসা পরিচালকের মারধরে আহত নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

ঘটনার পর উল্টো ওই নারী ও তার ছেলেদেরকে মারধর এবং মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন মাদ্রাসার ওই প্রভাবশালী পরিচালক।

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় রিংওয়েল থেকে খাবার পানি নেওয়ার ‘অপরাধে’ এক নারীকে মারধর করেছেন বান্দরবানের একটি মাদ্রাসার পরিচালক। প্রকাশ্যে নারী নির্যাতনের এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বান্দরবানের আলীকদমের ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক শামশুল হুদা এ ঘটনা ঘটান।

বুধবার নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে শামশুল হুদাসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আলীকদম থানায় মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ফয়জুল উলুম মাদ্রাসায় একটি রিংওয়েল আছে। স্থানীয়দের অনেকেই সেখান থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করেন। নির্যাতনের শিকার ওই নারীর বাড়িতে নিরাপদ খাবার পানির কোনও উৎস না থাকায় মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসার রিংওয়েল থেকে পানি আনতে যান ওই নারীর ছেলে। তখন তাকে পানি নিতে বাধা দেন অভিযুক্ত শামশুল। প্রতিবাদ করলে তিনি মসজিদের ঝাড়ু দিয়ে ওই ছেলেকে পিটিয়ে মাদ্রাসা কম্পাউন্ড থেকে বের করে দেন। মারধরে তার ডান হাত, ডান কান ও পিঠে জখম হয়। 

পরে ওই নারীর আরেক ছেলে তার ভাইকে মারধরের কারণ জানতে গেলে তাকেও মারধর করে মাদ্রাসা কম্পাউন্ড থেকে বের করে দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ছেলেদের বাঁচানোর জন্য গেলে শামশুল হুদা ওই নারীর গলা চেপে ধরে ধাক্কা দেন। শামশুলের মারধর থেকে বাঁচতে পালানোর চেষ্টা করলে তিনি ইট ছুঁড়ে তাকে আহত করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন স্বজনরা। 

এদিকে, ঘটনার পর উল্টো ওই নারী ও তার ছেলেদেরকে মারধর এবং মামলায় জড়ানোর হুমকি দেন মাদ্রাসার প্রভাবশালী পরিচালক শামশুল হুদা।

এ বিষয়ে আলীকদমের ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মুফতি শফিউল আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ইসলামী শরীয়ত মতে একজন নারীর গায়ে হাত তোলা চরম অপরাধ, এটা অন্যায় এবং লজ্জাজনক।

ওই মাদ্রাসার পরিচারিকা আম্বিয়া খাতুন বলেন, মাহফিলের জন্য সবাইকে পানি না দেওয়ার জন্য বলেছিলেন পরিচালক। তাই আমি তাদেরকে পানি নিতে বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু ওই নারীর ছেলে আমাকে গালাগালি করায় পরে হুজুর তাকে ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করে এবং মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন। পরে কি হয়েছে তা তার জানা নেই বলে জানান।

মাদ্রাসার শিক্ষক তৌফিক বলেন, আলীকদম থানা থেকে এএসআই খালেদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। পরে পুলিশ উভয়পক্ষকে থানায় যেতে বলে। সেখানে আলীকদম থানার ওসি রফিক উল্লাহ তাদেরকে আলাদাভাবে বুঝিয়ে মীমাংসা করেন এবং নির্যাতনের শিকার নারী ও তার ছেলের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহনের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

নির্যাতনের শিকার নারীর ছেলে আলম জানান, আমরা ওসির সমাধান মেনে নিয়েছি। কিন্তু মাদ্রাসা শামশুল হুদা আরও বেশি হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক রনি কর্মকার জানান, শরীরের বাইরে কোথাও জখমের চিহ্ন না থাকলেও ওই নারীর কোমরে প্রচুর ব্যথা হচ্ছে। তাই শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকউল্লাহ জানান, এই ঘটনায় সালমা বেগম ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ঘটনার পর বুধবার মাদ্রাসাটিতে ওয়াজ মাহফিল হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসন তা বন্ধের নির্দেশ দেয়।

ভিডিও-