• বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩০ রাত

পরীক্ষার হলে শিক্ষক চুল কেটে দেয়ায় ছাত্রের আত্মহত্যার চেষ্টা

  • প্রকাশিত ০৯:০৭ রাত এপ্রিল ২৫, ২০১৯
নরসিংদী

ঐ শিক্ষার্থী বর্তমানে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন  আছে

নরসিংদীর বেলাবতে পরীক্ষার হলে প্রকাশ্যে শিক্ষক মাথার চুল কেটে নেয়ায় লজ্জায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। বুধবার উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের লাখপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী বর্তমানে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন  আছে বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

তার পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার দশম শ্রেণির প্রথম সেমিষ্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই পরিদর্শনে এসে হলকক্ষে প্রবেশ করেন প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন কাজল। ওই সময় তিনি ঐ শিক্ষার্থীর চুল কাটার ধরণ পছন্দ না হওয়ায় অফিস কক্ষ থেকে কাঁচি এনে সকল শিক্ষার্থীর সামনে বাজে ভাবে তার চুল কেটে দেন। এসময় প্রধান শিক্ষকের এরকম কর্মকাণ্ডে হতভম্ব হয়ে পড়েন শিক্ষক এবং পরীক্ষার্থীরা। 

এদিকে, পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে ঐ শিক্ষার্থী লজ্জায় ও অপমানে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।পরবর্তীতে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জ্ঞান না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

ভুক্তভোগীর পিতা আবু তাহের ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, কোনদিন আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোন খারাপ কাজের অভিযোগ পাইনি। আমার ছেলের মাথার চুল প্রধান শিক্ষকের পছন্দ না হলে তিনি তাকে আলাদাভাবে বলতে পারতেন। এমনকি আমাদেরকে অফিসে ডেকে বলতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে সবার সামনে তার মাথার চুল কেটে দেন। এতে সে লজ্জা ও অপমানে কিছু একটা খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে"। 

এছাড়াও এই ঘটনায় বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া থানায় ডেকে নিয়ে তার সাথে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আপোষ করিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান ভুক্তভোগীর বাবা। 

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন কাজলকে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে না পেয়ে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে অন্যান্য শিক্ষকরাও কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন কাজল একজন বদমেজাজি ব্যক্তি। তিনি নিজেই মাথার চুল কান পর্যন্ত রাখেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল হক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "ঘটনাটি সত্য। প্রকাশ্যে সকল শিক্ষার্থীর সামনে চুল কেটে নেওয়া রীতিমত নির্যাতন। একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি তা করতে পারেন না। এ ব্যাপারে কেউ আমাদের কাছে কোন অভিযোগ দেয়নি। তবে শুনেছি ওসি সাহেব প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের লোকজনকে আপোষ করিয়ে দিয়েছেন"। 

এদিকে আপোষের ব্যাপারে ওসি মো. ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, "এটাকে আসলে আপোষ বলা যাবে না। ঘটনাটি শুনে আমি ওই শিক্ষার্থীর বাবা মা ও ওই প্রধান শিক্ষককে ডেকে পাঠিয়েছিলাম। কারণ প্রধান শিক্ষক যা করেছে তা অন্যায়। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীর বাবা মা কোন অভিযোগ দিতে চাননি তাই আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি"।