• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৪ সকাল

দোষ ঢাকতে নুসরাতকে ঢাকায় এসে রক্ত দিয়েছিল হত্যাকারী মামুন

  • প্রকাশিত ০৫:২৩ সন্ধ্যা এপ্রিল ২৬, ২০১৯
নুসরাত জাহান রাফি
নুসরাত জাহান রাফি। ছবি: সংগৃহীত

মামলার আরেক প্রধান আসামি নুর উদ্দিন অপরাধ লুকাতে ঘটনার পরপরই নুসরাতের শরীরের আগুন নেভানোর জন্য একটি বদনা নিয়ে হাজির হয়

নুসরাত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম তিন অভিযুক্ত মামুন, নুর উদ্দিন এবং কাদের নিজেদের অপরাধ ঢাকতে অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করে। এমনকি, নিজেদের দোষ চাপা দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাতের সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে রক্তদানও করে তারা।

এই মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, অপরাধ ঢাকতে মামলার অন্যতম প্রধান আসামি এমরান হোসেন মামুন ঘটনার পর ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়ে নুসরাতকে রক্তদান করে। এর পাশাপাশি অধ্যক্ষ সিরাজকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলনও গড়ে তোলে সে।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, মামলার আরেক প্রধান আসামি নুর উদ্দিন অপরাধ লুকাতে ঘটনার পরপরই নুসরাতের শরীরের আগুন নেভানোর জন্য একটি বদনা নিয়ে হাজির হয়। এসময় মামলার অন্যতম আসামি আব্দুল কাদের নিজেই ভালো মানুষের মতো ফোনে নুসরাতের পরিবারকে তার অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনার কথা জানায়। এই মাদ্রাসা শিক্ষকের কক্ষেই ঘটনায় জড়িত আসামিরা একাধিকবার বৈঠক করে বলেও পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

মামলার তদন্ত অনুসন্ধান এবং মামলায় জড়িত বিভিন্ন আসামিদের জবানবন্দি থেকে তারা এইসব তথ্য উদঘাটন করেন বলে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তারা জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: শাহ আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "নুসরাত হত্যায় দায় স্বীকার করে আদালতে কামরুন নাহার মনি জবানবন্দি দেওয়ার পর মামুনের নামটি সামনে আসে। এর পর মামুন আত্মগোপনে চলে যায়। গত ২০ এপ্রিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়"।

প্রসঙ্গতঃ এই মামলায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতারকৃতরা হলো মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ্দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, সাইফুর রহমান জোবায়ের, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, উন্মে সুলতানা মনি, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও এমরান হোসেন মামুন এবং মহিউদ্দিন শাকিল। এর মধ্যে ৮ জন আসামি ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়াও মামলার ৭ আসামি বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছে।