• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২০ রাত

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রেমিকের আত্মহনন, পরদিন প্রেমিকার আত্মহত্যার চেষ্টা

  • প্রকাশিত ০৯:২১ রাত এপ্রিল ২৬, ২০১৯
মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

প্রেমঘটিত কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদায় প্রেমঘটিত কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন রাজিব (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। খবর শুনে শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকালে প্রেমিকা আঁখি তারা (১৮)-ও হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। 

আঁখিকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

রাজিবের আত্মহত্যার ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। 

উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর গ্রামের মনিরউদ্দিনের ছেলে রাজিব দর্শনা সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থা তার মৃত্যু হয়। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রাজিব। রাজিবের স্ট্যাটাসটি তার বড় ভাই দেখামাত্র বাড়িতে ফোন করে জানান। কিন্তু তার আগেই বিষপান করেন তিনি। রাতেই রাজিবের লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হয়। তবে আত্মহত্যার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে পুলিশ রাজিবের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান, রাজিবের আত্মহত্যার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। 

ফেসবুকে রাজিব লিখেন- "এটা আমার লাইফের শেষ স্ট্যাটাস। এটা জানি কথাগুলো শোনার পর অনেকে মানতে পারবে না। আবার অনেকের কাছে ভালো লাগবে শুনে।কিন্তু এটাই হয়ে গেছে, সময়ের কাছে বাস্তবতার কাছে আমি হেরে গেলাম। খুব ইচ্ছে ছিল আর দশজনের মতো স্বাভাবিকভাবে জীবন চালানোর; কিন্তু পারলাম না।ডিশিসনটা আমি খুব সহজভাবে নেই নাই, আমাকে বাধ্য হয়ে নিতে হইছে। ডিপ্রেশন আমাকে শেষ করে দিছে। মেন্টালি ফিজিক্যালি কোনোভাবেই আমি ভালো নেই।  স্বপ্ন ছিল অনেক কিন্তু সেটা পূরণ করতে পারলাম না। তার আগেই চলে যেতে হলো আমাকে। মাফ করে দেবেন সবাই। বড় ভাই-ভাবি, মেজ ভাই, ফ্রেন্ডস কারও সঙ্গে যদি কখনও অন্যায় করে থাকি, তা হলে ক্ষমা করে দিয়েন সবাই।আর ফ্যামিলির কথা কী বলব। যদিও সবাই ভুলে যাবে কিন্তু ফ্যামিলি কখনও ভুলবে না। বাবা-মা, ভাই সবাই আমাকে মাফ করে দিয়ো। ভালো থেকো তোমরা সবসময়। তোরাই আমার লাইফে একটা বেস্ট পার্সন ছিলি। সব সময় আমাকে সাপোর্ট করতি, ভালো উপদেশ দিতি। কিন্তু আমি শুনি নাই। আজকে যদি তোর কথাগুলো শুনতাম তাহলে আর এইদিন দেখতে হতো না আমার। ভালো থাকিস সব সময়। নিজের খেয়াল রাখিস আর আমাকে মাফ করে দিস দোস্ত।ভালো থেকো প্রিয় মা-বাবা। ভালো থেকো প্রিয় মানুষ। ক্ষমা করে দিও আমায়...!!

সবশেষ একটা কথা বলে যাই- আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, ভালো থাকবেন সবাই আল্লাহ হাফেজ।"

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মিজান (তদন্তকারী কর্মকর্তা) ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, প্রেমঘটিত কারণে রাজিব আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। রাজিব তার স্ট্যাটাসে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছুই উল্লেখ করেননি।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।