• বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

নুসরাত হত্যার কথা স্বীকার করে যা বললেন অধ্যক্ষ সিরাজ

  • প্রকাশিত ১০:০৯ রাত এপ্রিল ২৮, ২০১৯
অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা
অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

জবানবন্দিতে সিরাজ বলেন, "তারা আমাকে বলে, 'উস্তাদ,  আলেম সমাজকে হেয় করায় নুসরাতকে একটা কঠিন সাজা দেওয়া দরকার।'"

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সোনাগাজী সিনিয়র ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা।

আজ রোববার রাতে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম  জাকির হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নুসরাত হত্যার নির্দেশ দাতা হিসাবে দায় স্বীকার করেন তিনি।   

বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টা সিরাজ জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে সিরাজ বলেন, "গত ৪ এপ্রিল নুর উদ্দিন, শাহদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদেরসহ আরও কয়েকজন ফেনী কারাগারে আমার সঙ্গে দেখা করে। এই সময় তারা আমাকে বলে, 'উস্তাদ  আলেম সমাজকে হেয় করায় নুসরাতকে একটা কঠিন সাজা দেওয়া দরকার।' এই ব্যাপারে তারা আমার হুকুম চায়। আমার অনুগত ছাত্ররা হুকুম চাওয়ায় আমি ভাব আবেগে আবেগিত হয়ে নির্দেশ দিয়ে ছিলাম,  ‘করো, তোমরা কিছু একটা করো।’" 

'আমি তাদেরকে নির্দেশ দিয়ে ছিলাম নুসরাতকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দাও। চাপে কাজ না হলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে নির্দেশ দেই।'   

সিরাজের জবানবন্দি শেষে ফেনীর আদালত এলাকায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল সাংবাদিকদের এই বিষয়ে ব্রিফিং করেন। 

মো. ইকবাল বলেন, ‘এ মামলায় এজাহারভুক্ত আট আসামিসহ এখন পর্যন্ত ২৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তাদের মধ্যে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী পাঁচজন হলেন-শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, উম্মে সুলতানা পপি ও কামরুন নাহার মনি। সিরাজসহ মামলায় নয়জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।’

তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই সূত্র জানায়, নুসরাত হত্যার ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কমপক্ষে ২৫ জন জড়িত রয়েছেন। 

নুসরাতের বড়ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। ১০ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই ২৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে  ১০ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।  এখনো ছয়জন রিমান্ডে রয়েছেন।