• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

মারা গেছেন চাঁদপুরের সেই গৃহবধূ

চাঁদপুর দীপিকা
স্বামী-সন্তানের সঙ্গে দীপিকা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

স্বামী ও তার শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের দেওয়া আগুনে দীপিকার শরীরের ৯২ ভাগই পুড়ে গিয়েছিল।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মাদকাসক্ত স্বামী ও তার পরিবারের দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ দীপিকা আচার্য্য চিকিৎসারত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন।

শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা ঢামেকের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে মারা যান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়।

হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, স্বামী ও তার শ্বশুড়াবাড়ির লোকজনের দেওয়া আগুনে দীপিকার শরীরের ৯২ ভাগই পুড়ে গিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীপিকার বাবার বাড়ি নরসিংদী জেলার ছোট মাধবদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে। ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে হাজীগঞ্জ পৌরসভার বকুলতলা রোডের রঞ্জিত আচার্য্যের ছেলে বিপুল আচার্য্যের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এই দম্পতির ৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, দীপিকার শরীর ৯২ ভাগই পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা তার 'ডেথ বেড স্টেটমেন্ট' নিয়েছেন। বক্তব্যে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মামলা সূত্রে খবর, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ডের বকুলতলা রোডের রঞ্জিত আচার্য্যের ছেলে বিপুল আচার্য্য ও তার বড় ভাই সজল আচার্য্য গত ৩০ এপ্রিল গভীর রাতে বিপুলের স্ত্রী দীপিকা আচার্য্য (মনিকা)-কে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে রাতেই দীপিকাকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে কুমিল্লা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকেই ওই দিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। 


আরও পড়ুন-চাঁদপুরে গৃহবধুকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, স্বামীসহ গ্রেফতার ৩


এদিকে, মুঠোফোনের মাধ্যমে বোনের দুর্ঘটনার খবর শুনে বড়ভাই অরবিন্দ আচার্য্য ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে গেলে ভাইকে দীপিকা জানান, তাকে মারধর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। এরপরই তার ভাই বৃহস্পতিবার দুপরে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

বিপুল মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে তাদের পরিবারে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত বলে জানিয়েছে পারিবারিক সূত্র।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির এবং হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগির হোসেন রনি।

দীপিকার বড় ভাই অরবিন্দ আচার্য্যের অভিযোগ, বিপুল আমার বোনকে শরীরে আগুন লাগানোর আগে তাকে মেরে ফেলার জন্য মারধর করে। তার মাথা ও কপাল ফেটে গেছে। বিপুল, সজল, তাদের মা সন্ধ্যা রাণী, সজলের স্ত্রী দীপা মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

তিনি আরও জানান, দীপিকার গায়ে আগুন দিয়ে বিপুল তার ভাই সজল, তাদের মা এবং দীপাকে তাদের বাসায় ডেকে আনে। পরবর্তীতে তাদের সহায়তায় রাতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীপিকাকে যে ঘরে নির্যাতন করা হয়েছে তার দেয়ালে রক্তের দাগ রয়েছে।

অরবিন্দ আচার্য্য আরো জানান, ঘটনার পর থেকে দীপিকার ৩ বছরের মেয়েকে নিয়ে দীপা পলাতক রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিপুলের বড় ভাই সজলকে হাজীগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে আর বিপুল ও তার মা সন্ধ্যা রাণী আচার্য্যকে ঢাকা মেডিকেল থেকে গ্রেফতার করে রাতে হাজীগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে। মামলার আরেক আসামি সজলের স্ত্রী দীপা আচার্য্যকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।