• বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:২৭ সন্ধ্যা

ছাত্রলীগের হাতে মার খেলেন সেই শ্রাবণী শায়লা

  • প্রকাশিত ০১:৫৭ দুপুর মে ১৪, ২০১৯
২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি এক ছাত্রীকে মারধর করছেন শ্রাবণী শায়লা
২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি এক ছাত্রীকে মারধর করছেন শ্রাবণী শায়লা

২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি একটি মারধরের ঘটনায় শায়লা বেশ সমালোচিত হন।

এক বছর পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই কমিটিকে বিতর্কিত ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভে হামলা চালায় সদ্য পদপ্রাপ্তরা। এতে ছাত্রলীগের হল কমিটির সাবেক নেতাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। 

গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এই ঘটনা ঘটে।   

হামলায় আহতরা হলেন- ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সদস্য ও ডাকসুর বর্তমান সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, কবি সুফিয়া কামাল হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর আরেক সদস্য ফরিদা পারভীন, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আক্তার, রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশাসহ কয়েকজন।

এছাড়াও এ হামলায় আহত হয়েছেন ছাত্রলীগের নেত্রী শ্রাবণী শায়লা। তিনি কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

এর আগে ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি একটি মারধরের ঘটনায় শায়লা বেশ সমালোচিত হন। সেদিন ছাত্রলীগের হামলার বিচার, তাদের নামে দায়ের করা ভাঙচুর মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দে’র ব্যানারে বেশ কিছু শিক্ষার্থী উপাচার্যের কার্যালয় অবরোধ করে।


আরও পড়ুন- ‘বিবাহিত, মাদক ব্যবসায়ী’-দের সরিয়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি দাবি


পরে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের নেতৃত্বে ভিসিকে উদ্ধার করে তার কার্যালয়ের নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে কয়েকশ’ নেতাকর্মী এসে পুরো প্রশাসনিক ভবন ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক মারধর করে। 

সেদিন এ হামলার বেশ কিছু ছবি গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তবে সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়, ছাত্রলীগের নেত্রী শ্রাবণী শায়লার অন্য এক সাধারণ নারী শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হওয়ার দৃশ্য। 

গতকালের ঘটনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে বিক্ষোভ করেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে যান পদবঞ্চিত এসব নেতাকর্মীরা। পদবঞ্চিত এসব নেতাকর্মীরা সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এদিকে, সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন সদ্য পদপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা। মধুর ক্যান্টিনে মুখোমুখি অবস্থান নেন পদবঞ্চিত ও পদপ্রাপ্তরা। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন শুরু করতে গেলে পদপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা মুহুর্মূহ স্লোগান দিলে পদবঞ্চিতদের সংবাদ সম্মেলন বাধাগ্রস্ত হয়। 


আরও পড়ুন- ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে ঢাবির ভিসি-পুত্র


ঘটনাস্থলে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, এ সময় পদপ্রাপ্তদের মধ্যে থেকে কয়েকজন সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনকে 'শিবির' আখ্যায়িত করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় জাকিরের অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন রেখে দাঁড়িয়ে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সম্মেলনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেললে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান। একপর্যায়ে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুরু হলে আহত হন দশ নেতা-কর্মী। 

এসময় চেয়ারের আঘাতে রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশার মাথা ফেটে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।