• মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫ রাত

ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে কলেজ অধ্যক্ষের চাঁদাবাজির মামলা

  • প্রকাশিত ০৮:১৭ রাত মে ১৪, ২০১৯
ছাত্রলীগ চাঁদাবাজি জামালপুর
জামালপুরের কিয়ামত উল্লাহ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ ঢাকা ট্রিবিউন

অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে কিয়ামত উল্লাহ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করেছেন কলেজটির অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী।

সোমবার (১৩ মে) রাতে বকসীগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ রেজা ও সাধারণ সম্পাদক আদনান আকাশকে আসামি করে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

কলেজ সূত্র জানায়, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ রেজা ও সাধারণ সম্পাদক আদনান আকাশের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ডিগ্রির ফরম ফিলাপের টাকা নেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষকে তাদের ফরম ফিলাপের জন্য বলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কলেজ অধ্যক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করে।

এদিকে, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে কলেজ অধ্যক্ষের চাঁদাবাজি মামলার প্রতিবাদে এবং তার অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় কলেজ ছাত্রলীগ ও উপজেলা শাখা ছাত্রলীগ। ফলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। 

তবে এমন অভিযোগ 'মিথ্যা' দাবি করে বকশীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ রেজা ও সাধারণ সম্পাদক আদনান আকাশের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি প্রতিনিধি দল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে গরীব শিক্ষার্থীদের বিনা টাকায় ফরম ফিলাপের দাবি জানিয়েছিল। 

তার অভিযোগ, অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী ক্যাম্পাসে টানানো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবিসহ ছাত্রলীগের ব্যানার, ফেস্টুন এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজে যোগদানের পর থেকেই অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী সেখানকার অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করে শৃংখলা ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছেন। এ কারণে কলেজকে ঘিরে গড়ে ওঠা সুবিধাবাদী চক্র অধ্যক্ষকে নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। তারা নিজেরাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ভাংচুর করে অধ্যক্ষের ওপর দায় চাপাচ্ছে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বলেন, কলেজের সব কার্যক্রমের দায়িত্ব তাদের কাছে হস্তান্তরের অনৈতিক দাবি জানায় ছাত্রলীগ। তাদের তালিকা মতো বিনা টাকায় ফরম ফিলাপ না করায় আমার কাছেই তারা চাঁদা দাবি করে। এ বিষয়ে থানায় এজাহার এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। 

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মাহবুবুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কলেজে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চাঁদা দাবি করায় অধ্যক্ষ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।