• সোমবার, মে ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৬ রাত

রাজধানীর রাস্তায় এত ভাঙাভাঙি কেন, প্রশ্ন হাইকোর্টের

  • প্রকাশিত ১০:১৪ সকাল মে ১৬, ২০১৯
হাইকোর্ট
বাংলাদেশ হাইকোর্ট। ফাইল ছবি। ঢাকা ট্রিবিউন

‘আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা, আইন ও আদালতের আদেশ আপনাদের মানতে হবে। আপনার, আমার ও সবার বেতন হয় জনগণের করের টাকায়, সরকারি রীতিনীতি ও আইন মেনে না চললে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে’

‘ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে আপনাদের অবহেলা রয়েছে। কিছু দিন পরপর ভালো সড়ক বিভাজকগুলো ভেঙে নতুন করে তৈরি করছেন। এত ভাঙাভাঙি কেন...নগরবাসীর কাছ থেকে প্রচুর টাকা কর নেন, কিন্তু সেই তুলনায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আপনারা তাদের দিচ্ছেন না।’

বুধবার (১৬ মে) বায়ুদূষণ সংক্রান্ত রিটের শুনানিকালে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

তলব আদেশ মেনে আদালতে হাজির হওয়া দক্ষিণ সিটির সিইও মোস্তাফিজুর রহমান এবং উত্তরের আবদুল হাইকে হাইকোর্ট বলেন, “আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা। আইন ও আদালতের আদেশ আপনাদের মানতে হবে। আপনার, আমার ও সবার বেতন হয় জনগণের করের টাকায়। ওই করের টাকায় গাড়ি-বাড়ি দেয় সরকার। সরকারি রীতিনীতি ও আইন মেনে না চললে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে। জবাবদিহির ঊর্ধ্বে কেউ নন।”

একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় উল্লেখ করে আদালত বলেন, “দেশ স্বাধীনের পর ৫০ বছর হতে চলল, তারপরও যদি সবকিছু সঠিকভাবে না চলে, শহরটিকে যদি বাসযোগ্য করা না যায় তাহলে কীভাবে হবে? শুধু ধুলার দূষণ রোধে পানি ছিটালেই হবে না, শহরের সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটাও জরুরি।”

মশা নিধনে পদক্ষেপ: হাইকোর্ট বলেন, মশা নিধনে এখনই আপনাদের পদক্ষেপ নেয়া উচিত। যদি সেটা করতে ব্যর্থ হন তাহলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হবে নগরবাসী। আপনারা এ দেশের সন্তান। দেশের জন্য মায়া থাকা উচিত। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এ ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হবে।

উত্তর সিটির সিইও’র উদ্দেশে আদালত বলে, আপনি তো অভিজাত এলাকার দায়িত্বে। সেখানে বিদেশি দূতাবাসগুলো আছে। বিদেশিরা ঘনঘন সেখানে যাওয়া আসা করেন। এ এলাকার সড়কগুলো যেন আবর্জনামুক্ত থাকে সেটা আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমরা আশা করছি বর্তমান মেয়র সেগুলো এগিয়ে নেবেন।

সরকার প্রতিটি প্রকল্পে প্রচুর টাকা বরাদ্দ দিলেও দুর্নীতির মাধ্যমে বাজে জিনিস কেনা হয় বলে মন্তব্য করে আদালত।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষে নুরুন্নাহার আক্তার উপস্থিত ছিলেন।