• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১০ বিকেল

‘কাউকে কিছু বললেই তোর ভাইকে মেরে ফেলব...’

  • প্রকাশিত ০১:০৬ দুপুর মে ১৬, ২০১৯
অপহৃত শিশু
উদ্ধারকৃত শিশু সুরমা ও রাহাতের সঙ্গে এসআই রশিদ। ঢাকা ট্রিবিউন

রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার বিকেলে নারীর কাছে শিশু দুটিকে দেখেই আমার সন্দেহ হয়। আমি জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় ওই নারী বলে, শিশু দুটিকে আমি এখানে খুঁজে পেয়েছি।’

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্ধার হওয়া পিতৃহারা শিশু রাহাত ও সুরমাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। 

পাঁচদিন আগে ভিক্ষাবৃত্তির জন্য চট্টগ্রাম থেকে এ দুই ভাইবোনকে চুরি করে কুলাউড়া নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কুলাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ জানায়, ১৫ মে, বুধবার বিকেলে কুলাউড়া রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে এক নারীর সঙ্গে একটি মেয়ে ও একটি ছেলে শিশুকে দেখতে পান রেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রশিদুল ইসলাম। তাদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় ওই নারী ও শিশু দুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ওই এসআই। একপর্যায়ে সুরমা জানায়, ওই নারী তাদেরকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার লোভ দেখিয়ে চট্রগ্রামের বিরলাপাড়া থেকে ট্রেনে করে কুলাউড়া নিয়ে এসেছে। পরে তাদেরকে মারধর করে এবং তার ভাই রাহাতকে আটকে ওই নারী বলেছে, “ভিক্ষা করে টাকা এনে দিবি। আর কাউকে কিছু বললেই তোর ভাইকে মেরে ফেলব।”

সুরমা জানায়, তাদের বাড়ি চট্রগ্রামের বিরলাপাড়ায়। তার বাবা অহিদুল ও মায়ের নাম শিল্পী।তাদের আরও দুই ভাই ও তিন বোন রয়েছে। রিক্সা চালক বাবা মারা যাওয়ার পর মা অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে। 

কুলাউড়া রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মো. রশিদুল ইসলাম বলেন, “বুধবার বিকেলে মহিলার কাছে শিশু দুটিকে দেখেই আমার সন্দেহ হয়। আমি জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় ওই মহিলা বলে, ‘শিশু দুটিকে আমি এখানে খুঁজে পেয়েছি।’ এক পর্যায়ে মহিলাটি পালিয়ে যায়। এ সময় শিশু দুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।”

এ বিষয়ে কুলাউড়া রেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মালেক বলেন, “তারা আপন ভাই বোন। যেহেতু শিশু দুটির পরিচয় পাওয়া গেছে তাই তাদেরকে আমাদের তত্ত্বাবধানে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি।"

চট্রগ্রাম রেলওয়ে থানা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আজ (বৃহস্পতিবার)ওই শিশু দুটিকে তাদের মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান ওসি।