• সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৪ বিকেল

মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে সরকারি গাড়ি চালকের বেআইনি ব্যবসা!

  • প্রকাশিত ০৪:২১ বিকেল মে ১৭, ২০১৯
মোশারফ মুন্সিগঞ্জ
অভিযুক্ত মোশারফ ঢাকা ট্রিবিউন

‘আমি কি সরকারকে ট্যাক্স, ভ্যাট দেইনা? সরকার যদি সমস্যা মনে করতো তাহলে এধরনের অ্যাম্বুলেন্স সেবা সারাদেশে বন্ধ করে দিত।’

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের গাড়ি চালক মো. মোশারফ হোসেন। সরকারি কর্মচারী হয়েও মুন্সীগঞ্জে ‘তাকওয়া অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস’ নামে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার তিনটি অ্যাম্বুলেন্স আছে। 

কিন্তু, সরকারি কর্মচারী (আপিল ও শৃঙ্খলা) বিধিমালা ১৯৮৫ এর ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে সরকারি কার্যব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসায় জড়িত হতে অথবা অন্য কোনো চাকুরি বা কার্য গ্রহণ করতে পারবেন না।” এসব বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (আপিল ও শৃঙ্খলা) বিধিমালা ১৯৮৫-এর অধীনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। 

তবে অভিযুক্ত মোশারফ হোসেনের দাবি, তিনি প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবসা করেন না। নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়িটি কিনে বিআরটিএ থেকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। 

তিনি বলেন, “আমি কি সরকারকে ট্যাক্স, ভ্যাট দেইনা? সরকার যদি সমস্যা মনে করতো তাহলে এধরনের অ্যাম্বুলেন্স সেবা সারাদেশে বন্ধ করে দিত।”

বিভিন্ন সময় নিজের অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন তিনি। কখনো বলেন, তার একটি অ্যাম্বুলেন্স, কখনোবা জানান তিনটির কথা। তবে খোঁজ নিয়ে তার মালিকানায় তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

একদিকে সরকারি কর্মচারী হয়ে বিধি বহির্ভূত ব্যবসা, অন্যদিকে মোশারফের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের গাড়িগুলোতেও নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। মূলত সেগুলো অ্যাম্বুলেন্স না, সাধারণ মাইক্রোবাসকে ভেঙে রূপ দেওয়া হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সে। তার ওপর তিনি ভাড়াও নেন যথেচ্ছ। 

এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। বিষয়টি স্বীকার করে মুন্সীগঞ্জ বিআরটিএ'র মটরযান পরিদর্শক মো. সাজ্জাদুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, এখন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশনবিহীন অবৈধ অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। 

সরকারি চাকরি করে কেউ ব্যবসায় জড়িত হতে পারেন কিনা জানতে চাইলে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুমন বণিক জানান, “তিনি এটা (ব্যবসা) পারেন না।”

এদিকে, অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায় জড়িত থাকার বিষয়টি জানার পর গাড়িচালক মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা. ফজলে রাব্বী ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, “তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনও কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়নি। কয়েকদিনের মধ্যেই রিপোর্ট পাওয়া যাবে।”

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক টংগিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল বাসার জানিয়েছেন, আর এক সপ্তাহ পরেই এ বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।