• বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

কুষ্টিয়ায় খাল খনন, বাড়বে ফসল ও দেশি মাছের উৎপাদন

  • প্রকাশিত ০১:৫২ দুপুর মে ১৮, ২০১৯
খাল
খাল খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, ফসল ও দেশি মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

‘দেরিতে হলেও এমন উদ্যোগ এলাকাবাসীসহ সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। তবে খাল খনন কাজ যাতে স্বচ্ছতার সাথে হয় সেই উদ্যোগ নিতে হবে।’ খননের পাশাপাশি পুনঃরায় যাতে বেদখল হয়ে না যায় সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৪ যুগেরও বেশি সময় পর ডি-৫বিকে খালসহ ৬টি উপজেলার ৮০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালটি খননের কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। 

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, খালগুলো খনন না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে ফসল নষ্ট হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে সঙ্গে, ফসল ও দেশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত রক্ষা পাবে। পাশাপাশি খাল খনন শেষে সবুজ বনায়ন গড়ে তোলা হবে।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মশান চারমাইল এলাকার কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে মিরপুর ডি-৫বিকে খালটি খনন করা হয়েছিল। পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি খালে প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। অনেক দিন খনন না করায় দখলসহ খালটি ভরাট হয়ে যায়। এতে বর্ষায় মাঠে পানি জমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে আসছিল। দেরিতে হলে খালটি খনন করায় অনেক এলাকার মানুষ সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

স্থানীয়রা জানান, মিরপুর ডি-৫বিকে খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ কিলোমিটার। খালটি জগতি এলাকা থেকে শুরু হয়ে মশান হয়ে চাঁপাইগাছি বিলে গিয়ে মিশেছে। এলাকার পানিও খালের মাধ্যমে ওই বিলে গিয়ে পড়তো এক সময়। তবে ভরাটের কারণে খাল দিয়ে পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হয়ে আসছিল। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, দেশের ৬৪টি জেলায় ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) আওতায় কুষ্টিয়ায় ৮০ কিলোমিটার খাল খনন কাজ চলছে। চলতি বছরেই এসব খাল খনন কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর মধ্যে কুষ্টিয়া সদর ডি-২বিকে ড্রেনেজ খাল পুনঃখনন ৯ কিলোমিটার, খোকসা বধূখালী ড্রেনেজ খাল ৭.৭৫০ কিলোমিটার, সদরে ডি-১বিকে খাল ১৪.০৪০ খনন, মিরপুর ডি-৫বিকে খাল ১১.৪০০ কিলোমিটার, ভেড়ামারা ডি-৭বিকে খাল ১৭.২০০ কিলোমিটার, কুমারখালী ডি-৭বিকে খাল ১৭.৫০০ কিলোমিটার এবং দৌলতপুর তালবাড়ী খাল ৩.৫০০ কিলোমিটারসহ মোট ৮০.৪১০ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। প্রকল্পের ব্যায় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে খোকসা উপজেলার বধূখালী খালের খনন কাজ শেষ হয়েছে। অন্য খালগুলোর খনন কাজ চলমান রয়েছে। খাল খনন কাজ যাতে স্বচ্ছতার সাথে হয় সে জন্য বিশেষ ট্রাক্সফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো। 

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগতি এলাকার বাসিন্দা রেজাউল হক বলেন, “খাল খননের ফলে সারা বছর পানি পাবে এলাকাবাসী। এ ছাড়া খালের পানি ব্যবহার করে আবাদ করা যাবে। পাশাপাশি পরিবেশের জন্য অনেক ভাল হবে। খালগুলো খনন কাজ শেষ হলে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, মাঠে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি দেশি মাছের প্রজনন বৃদ্ধিসহ পরিবেশ বাঁচবে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।” 

পরিবেশ বিশ্লেষক খলিলুর রহমান মজু বলেন, “দেরিতে হলেও এমন উদ্যোগ এলাকাবাসীসহ সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। তবে খাল খনন কাজ যাতে স্বচ্ছতার সাথে হয় সেই উদ্যোগ নিতে হবে।” খননের পাশাপাশি পুনঃরায় যাতে বেদখল হয়ে না যায় সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, “পানি নিষ্কাশনের এসব খাল ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় একদিকে জলবদ্ধতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাঠে ফসল হানিসহ নানা সংকট সৃষ্টি হয়ে আসছিল। তবে দেরিতে হলেও এসব খাল উদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

খাল খনন কাজ শেষ হলে সারা বছর পানি পাবে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। এ ছাড়া খালের দুই পাড়ে গাছ লাগানোর পাশাপাশি কেউ মাছ চাষ করতে চাইলেও তাদেরকে সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।