• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫৫ সকাল

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী এবং শিক্ষকদের স্ত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

  • প্রকাশিত ০৮:০২ রাত মে ১৯, ২০১৯
যৌন হয়রানি
প্রতীকী ছবি

'প্রধান শিক্ষকের কারণে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সংসার ভেঙে গেছে'

বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের লক্ষীকোলা শাহ্ রওশন জালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে স্কুলের ছাত্রীদের, শিক্ষিকাদের এবং শিক্ষকদের স্ত্রীদেরকে যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।

এসবের বিচার চেয়ে গত ১৬ মে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর নানা ও ১৯ মে নয়জন শিক্ষক-শিক্ষিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকতার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। লিখিত আবেদনে স্কুলের ছাত্রী ছাড়াও শিক্ষকদের স্ত্রীদেরকেও যৌন হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।

এ প্রসঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আজিজার রহমান বলেন, "প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম অনেকদিন থেকেই ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি এবং কুৎসিত কথা বলার প্রেক্ষিতে ওই ছাত্রীর পরিবার বিচারের জন্য আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন"। 

তিনি আরও জানান, প্রথমে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও তাতে লাভ হয়নি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর নানা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে নালিশ করেন।

ওই বিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষক ও শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম শুধু ছাত্রীদেরই নয়, শিক্ষিকা ও শিক্ষকদের স্ত্রীদের দিকেও কু-দৃষ্টি দেন। তারা অভিযোগ আরও করেন, প্রধান শিক্ষকের কারণে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সংসার ভেঙে গেছে। সম্ভ্রম হারানোর ভয়ে কোন শিক্ষিকা তার কক্ষে ঢোকেন না।  এছাড়াও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হয়েছেন বলেও করেন ওই বিদ্যালয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষক এবং শিক্ষিকারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি দাবি করেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটা আমার বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র"। এসময় ছাত্রীকে যৌন হয়রানির বিষয়টি ইতোমধ্যে মীমাংসা হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ষড়যন্ত্র উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিক আজিজ ঢাকা ট্রিবিউনকে  বলেন, "এ বিষয়ে একজন অভিভাবক এবং কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। রোজার ছুটি শেষ হলে সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে তাকে চিঠি দেয়া হবে"।