• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৩ রাত

রাজধানীর ৩৪ পয়েন্টে ওয়াসার পানি পরীক্ষা করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

  • প্রকাশিত ০৬:০৬ সন্ধ্যা মে ২১, ২০১৯
পানি
প্রতীকী

আইসিডিডিআরবি, বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসোলেশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে ওয়াসার পানির ওই নমুনা পরীক্ষা করতে হবে

পানির চারটি স্তরসহ ৩৪টি পয়েন্টে রাজধানীর ওয়াসার পানি পরীক্ষা করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এছাড়া পানি পরীক্ষার জন্য আদালতের নির্দেশে গঠিত চার সদস্যের কমিটিকে ২ জুলাইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ মে)এ নির্দেশ দেন আদালত। 

হাইকোর্ট বলেন, আইসিডিডিআরবি, বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসোলেশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে ওয়াসার পানির ওই নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। প্রতিটি নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার টাকা খরচ ধরে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ওয়াসাকে দিতে বলা হয়েছে। আর স্থানীয় সরকার সচিবকে বলা হয়েছে ওয়াসার কাছ থেকে এ টাকা আদায় করে দিতে।

আদেশে আদালত চারটি উৎস (বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষা, ভূ-গর্ভস্থ ও ভূমিস্থ), ১০টি বিতরণ জোন (যা মডস জোন নামে পরিচিত) এবং গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ ও দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০টি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে বলেছে।

কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমানের মতামত শুনে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে) হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকা ওয়াসার ১০টি জোনের ৫৯ এলাকার পানিতে ময়লা পানির প্রবণতা বেশি। সরকারি এই সংস্থা গত তিন মাসে ময়লা পানির অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পেয়েছে।

হাইকোর্ট পানি পরীক্ষার ব্যয় সংকোচন ও পরীক্ষা পদ্ধতির বিষয়ে মতামত দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের (মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্ট) চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমানকে আদালতে আসতে বলেন। এর ধারাবাহিকতায় অধ্যাপক সাবিতা মঙ্গলবার হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে তার মতামত তুলে ধরেন।

অধ্যাপক সাবিতা আদালতে বলেন বলেন, "পানি দূষিত- এমন ঢালাও অভিযোগের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে সুপেয় পানিতে কোনো রকম রং, গন্ধ বা অস্বচ্ছতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সুপেয় পানি সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এসব লক্ষণ থাকলে অভিযোগ কেন্দ্রে আনা পানির নমুনা চূড়ান্তভাবে অগ্রহণযোগ্য বিবেচনায় কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।"

অনিরাপদ পানি নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৬ নভেম্বর রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয় আদালত।