• মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৪ দুপুর

সুরমার ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা-স্থাপনা, ‘উদ্যোগ নেই’ পাউবোর

  • প্রকাশিত ০৫:৩১ সন্ধ্যা মে ২২, ২০১৯
নদী ভাঙন
নদী ভাঙনে হুমকির মুখে গ্রাম- সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অভিযোগ করে আসছে। কিন্তু কার্যকর স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না পানি প্রতিষ্ঠানটি।

সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর অব্যাহত ভাঙনে পাঁচটি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের বসতবাড়ি, ফসলি জমি স্কুল-মসজিদ-মাদ্রাসা হুমকির মুখে পড়েছে। এসব এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্টরা উদাসীন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সুরমা ছাড়াও  বৌলাই, রক্তিসহ কয়েকটি নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ  উপজেলার, ধনপুর,সর্দারপুর, আমড়িয়া,  ইব্রাহিমপুর, ধারারগাঁও, লঞ্চঘাট, মঈনপুর, ইনাতনগর, মল্লিকপুর, হবতপুর, আমবাড়ি বাজার, দোহালিয়া, কাটাখালী, ব্রাহ্মণগাও, নুরুল্লাপুর, মুক্তিরগাঁও, বটতলা বেতউড়া, লক্ষ্মীবাউরসহ ত্রিশটি গ্রামের বসতবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, খাদ্যগুদাম, মাদ্রাসা, ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, পাকা সড়ক,হাটবাজার দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের মুখে রয়েছে।  

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর মার্চ মাস থেকে জুন পর্যন্ত নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া থেকে হ্রাস পাওয়ার সময় পর্যন্ত নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ,প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে নদীর ভাঙন ঠেকানোর নামেমাত্র চেষ্টা করা হয়। ফলে প্রতিবছরই ভাঙনের ফলে জনপদগুলোর আয়তন ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অচিরেই ৫টি উপজেলার কয়েকশত ঘরবাড়ি কৃষিজমিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। 

ভাঙনের শিকার সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামের আমিরুননেচ্ছা বলেন,  সুরমা নদীর ভাঙনে গত কয়েক বছরে কৃষি জমি গাছপালা গোয়ালঘর সব হারিয়েছি। এখন বসত বাড়ির সামনে নদী চলে এসেছে।  এই বর্ষায় বাড়িটি কোনো রকমে রক্ষা পেলেও শুষ্ক মৌসুমে একমাত্র সম্বল ঘরটি নদী গর্ভে চলে যাবে। শেষ সম্বল  ঘরটি চলে গেলে আমার পরিবারের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।  

ভাঙনের শিকার চাঁনমালা বেগম বলেন,কয়েক বছরের ভাঙনে আমাদের কৃষি জমি বাঁশের ঝাড়সহ মূল্যবান স্থাপনা নদীতে চলে গেছে। ৩০ শতক জায়গার জুড়ে বাড়ি ছিল, এখন সেটি ৫ শতকে এসে দাঁড়িয়েছে। 

দোয়ারাবাজার এলাকার গোলনাহার বেগম বলেন, নদীতে বাড়ি ভেঙ্গে পড়ে আমরা খালি পেছনের দিকে ঘর সরিয়ে নিয়ে যাই। গত কয়েক বছরের বসতঘর ৬ বার সরিয়ে নিয়েছি। এখন আর ঘর সরানোর মতো কোনো স্থান নেই। তাই নদী ভাঙনের কবলে পড়লে সরকারি জায়গা ছাড়া যাওয়ার কোনো নেই।

ইনাতনগর এলাকার আব্দুল জলিল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙ্গন চলতে থাকলেও কেউ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভাঙ্গন আগ্রাসী আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিও ব্যাগ বালি ভর্তি করে নদীতে ফেললেও তা দিয়ে ভাঙন আটকানো যাচ্ছে না।  

আবদুল জলিল জানান, গত কয়েক বছরের ইনাতনগর গ্রামের ত্রিশটির মতো বসতঘর নদীতে চলে গেছে। এসব পরিবারগুলো বাস্তুভিটে হারা হয়ে অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদী নদী ভাঙ্গনের ফলে তারা তিলে তিলে নিঃস্ব হয়েছেন। ঈদগাহ, মাদ্রাসা মসজিদ খেলার মাঠ সবি নদী গর্ভে চলে গেছে। এখন যাচ্ছে গরীব মানুষের বসত ঘর। 

ধনপুর গ্রামের নবাব মিয়া বলেন, নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অভিযোগ করে আসছে। কিন্তু কার্যকর স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না পানি প্রতিষ্ঠানটি।

দোয়ারাবাজারের মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দিলশাদ আলী বলেন, “সুরমা নদীর ভাঙনে আমবাড়ি বাজার,ধনপুর,হাজারিগাঁও গ্রামের অসংখ্য বসতঘর নদীতে চলে গেছে। ধনপুর  গ্রামের জামে মসজিদ, আমবাড়ি বাজারের দোকানপাট সব কেড়ে নিয়েছে নদী। এখন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো আমবাড়ি বাজারসহ ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ভবনও এক সময় নদী গর্ভে চলে যাবে।” 

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর (পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষন ) খুশি মোহন সরকার বলেন, “জেলার নদী ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর ডিপিপি প্রণয়ণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এগুলো অনুমোদন পেলে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।” 

50
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail