• সোমবার, জুন ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৯ রাত

অ্যাপে মিলছে না টিকেট : রাত থেকেই কাউন্টারে ভিড়

  • প্রকাশিত ০৭:৫৩ রাত মে ২৩, ২০১৯
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন
অ্যাপে টিকেট না পেয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকেটপ্রত্যাশীদের ভিড়। ছবি: ফোকাস বাংলা

কাঙ্খিত টিকেটের আশায় আবার সেই কমলাপুর রেল স্টেশনেই ভিড় জমাচ্ছেন টিকেটপ্রত্যাশীরা

আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখী মানুষদের সুবিধার্থে রেলওয়ে সেবা অ্যাপের মাধ্যমে রেলওয়ের ৫০ শতাংশ আগাম টিকেট বিক্রি করার ঘোষণা আসলেও বারবার চেষ্টা করেও অ্যাপে মিলছে না টিকেট। এর ফলে কাঙ্খিত টিকেটের আশায় আবার কমলাপুরসহ বিভিন্ন কাউন্টারে ভিড় জমাচ্ছেন টিকেটপ্রত্যাশীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, টিকেটপ্রত্যাশীদের ভিড়ে তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই স্টেশনের খোলা জায়গায়। প্রতিটি লাইন দীর্ঘ হতে হতে চলে গেছে স্টেশনের বাইরের খোলা মাঠে। লাইনের শুরু দেখা গেলেও কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে তা বের করা কঠিন। এরপরও টিকেট নামের সোনার হরিণটি পাওয়ার আশায় গতকাল গভীর রাত থেকেই স্টেশনে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন টিকেটপ্রত্যাশীরা।

সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, অ্যাপের মাধ্যমে টিকেট দেওয়া হচ্ছে না। বারবার চেষ্টা করলেও নানা জটিলতা দেখাচ্ছে। জানতে চাইলে রাজশাহীর টিকেটপ্রত্যাশী ইয়াকুল আলী বলেন, "গত দুই দিন ধরে অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে একটি টিকিট সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। এ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ালেও চারটি টিকেট পেতাম। কিন্তু অ্যাপ থেকে কোনও টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই ভোররাতে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি"।

রংপুরের টিকেটপ্রত্যাশী রিয়াজুল করিম বলেন, "অ্যাপে চেষ্টা করার পরই লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু অ্যাপ শুধু ঘোরে। এতো ঢাকঢোল পিটিয়ে এই অ্যাপ সেবা চালু করা হয়েছে। বলা হয়েছে এর মাধ্যমে ঘরে বসে রেলের সেবা পাওয়া যাবে। এতো প্রতারণা কেন? কেন অ্যাপ এমন সমস্যা করছে? এমন নিম্নমানের অ্যাপ কার স্বার্থে?"

এর আগে বুধবার কমলাপুর স্টেশনে টিকেট বিক্রি কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে রেলমন্ত্রী বলেন, "অ্যাপে টিকিট পেতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অনলাইনে টিকেট দিতে না পারাটা অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পাশাপাশি অ্যাপের মাধ্যমে যেসব টিকেট বিক্রি হবে না, আমরা পরবর্তী সময়ে তা কাউন্টার থেকে বিক্রি করবো"।

এদিকে রেল ভবন সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে ঈদের সময় একসঙ্গে প্রায় দেড় লাখ হিট পড়ে। তবে সিএনএসবিডির যে সক্ষমতা তাতে মাত্র ২০ হাজার লোড নিতে পারে। যে কারণে সাধারণ মানুষ অ্যাপের মাধ্যমে টিকেট পেতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

অন্যদিকে টিকেটপ্রত্যাশীদের ভিড় প্রসঙ্গে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, "সকাল ৯টা থেকে কাউন্টারগুলো থেকে টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিটি লাইনে মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করছেন। ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রিতে যেন কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী তৎপর রয়েছে"।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ২য় দিনের চলছে ট্রেনে ঈদের আগাম টিকেট বিক্রির কার্যক্রম। এদিন বিক্রি করা হচ্ছে ১ জুনের টিকেট। শুক্রবার (২৪ মে) বিক্রি হবে ২ জুনের টিকেট। ২৫ এবং ২৬ মে যথাক্রমে ৩ ও ৪ জুনের টিকেট বিক্রি করা হবে।