• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং: যেভাবে তৈরি হলো সেরার তালিকা

  • প্রকাশিত ১০:৫৬ সকাল মে ২৫, ২০১৯
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার। রাজিব ধর/ঢাকা ট্রিবিউন

কিছু বিশ্ববিদ্যালয় কয়েক বছর ধরে তাদের মান গড়ে তুলতে পেরেছে, কিন্তু সেই মান নির্ধারণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাপকের কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়  ১০১টি। এদের বেশিরভাগই নতুন হলেওদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় দুই দশকেরও কিছু আগে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যূনতম মান বজায় রাখতে পারে তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকারের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। 

সঠিক উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান বজায় এবং কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বেধে দিয়েছে ইউজিসি। 

এ বিষয়গুলো মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার অনুধাবন করেই ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন যৌথভাবে ২০১৭ সাল থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাংকিং প্রকাশ করে আসছে। দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের মান সম্পর্কে নিজেদেরকে কীভাবেমূল্যায়ন করবে তা নির্ধারণেরজন্য এর আগে কোনো গবেষণামূলক মূল্যায়ন হয়নি।কিছু বিশ্ববিদ্যালয় কয়েক বছর ধরে তাদের মান গড়ে তুলতে পেরেছে, কিন্তু সেই মান নির্ধারণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাপকের কোনো বিকল্প নেই।

চ্যালেঞ্জ
আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি পরিমাপক পদ্ধতি তৈরি করা, যা এ বছর আরো পরিমার্জন এবংযুগোপযোগী করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, মাত্র ৩৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এই র‍্যাংকিং-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের বেশ কিছুর রয়েছে ইউজিসি অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা। তবে বাকিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি, কারণ এগুলো খুবই নতুন এবং মাত্র এক অথবা দু’টি বিভাগে তাদের মানদণ্ড সঠিক জায়গায় রয়েছে। তাই যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগ রয়েছে এবং এতো বছরে প্রচুর স্নাতকধারী তৈরি হয়েছে তাদের সঙ্গে একই কাঠামোতে উপরোক্তদের তুলনা চলে না।

প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তথ্য ও উপাত্ত, যা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সংগ্রহ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ইউজিসি’র সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত তথ্যের মিল নেই। সেসব ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়েরপরে পরিবর্তন এসেছে। যাচাইয়ের পর প্রাপ্ত তথ্যগুলো একটি একক অঙ্কে নিয়ে আসা হয়েছে। এটাই হচ্ছে ‘ফ্যাকচুয়াল স্কোর’।

এরপর, ২০১৭ এর প্রথম র‍্যাঙ্কিংয়ের মতো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতকদের সম্পর্কে জানার জন্য দুই ধরনের ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হতে হয়েছে। একটি হচ্ছে- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও দ্বিতীয়টি উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাকরিতে নিয়োগদাতারা। মোটামুটি সংখ্যক প্রতিনিধিত্বকারী একদল শিক্ষক ও নিয়োগকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কীভাবে তারা তালিকায় স্নাতকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেখানে স্কোর দেওয়ার জন্য পয়েন্টের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের মান নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্কোরই সংক্ষিপ্ত করে পারসেপচুয়াল স্কোর তৈরি করা হয়েছে। 

কীভাবে এই র‍্যাঙ্কিং কাজে লাগতে পারে

উচ্চশিক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করা সবচেয়ে কঠিন একটি কাজ যার সম্মুখীন হতে হয় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই।

এক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের জন্য এ সংক্রান্ত তথ্যগুলো পাওয়ার প্রতিবন্ধকতা যা ভর্তির সীমিত সময়ের মধ্যেই তাদেরকে জানতে হয়। এক্ষেত্রে অনেক তথ্য তাদের প্রয়োজন হয়, যা সবসময় প্রয়োজনমাফিক পাওয়া না-ও যেতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ- একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কী পরিমাণ পিএইচডিধারী শিক্ষক রয়েছেন বা ক্যাম্পাসের আয়তন কতটুকু ইত্যাদি। এ ধরনের সব তথ্যই সন্নিবেশিত হয়েছে 'ফ্যাকচুয়াল স্কোর' ডেটায়। 

এছাড়া আরও প্রশ্ন রয়েছে যা আগে কখনো খোঁজ করা হয়নি কিন্তু বিষয়গুলো একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা হয়তো তার সারা জীবনের ক্যারিয়ারকে নির্ধারণ করবে। একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্নাতকদের চাকরিদাতারা কীভাবে মূল্যায়ন করেন? একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কাজের পরিবেশ সম্পর্কে সেখানকার শিক্ষকদের মন্তব্য কী? পারসেপচুয়াল স্কোরে এ প্রশ্নগুলোরউত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।

ঢাকাট্রিবিউন - বাংলাট্রিবিউন বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে এই উভয় স্কোর সন্নিবেশ করে একটি চূড়ান্ত স্কোর তৈরি করা হয়েছে যেখানে সামগ্রিক স্কোরের একটি সারমর্ম পাওয়া যাবে।বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং এই স্কোরের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে। 

একটি বিষয় যা স্কোরে দেখা গেছে, তা হলো- জনপ্রিয় ধারণাগুলো হয়তো প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে সবসময় মেলেনি। এছাড়া, একেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোরকে অন্যগুলোর সঙ্গে তুলনা করার ফলে এদের অর্জন সম্পর্কে একটি সম্যকধারণা পাওয়া যায়, পাশাপাশি এদের সীমাবদ্ধতাগুলো বোঝা যায়।


আরও পড়ুন - বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং: নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি শীর্ষে


প্রাপ্ত সামগ্রিক স্কোরের ভিত্তিতে, এ বছর তালিকায় প্রথম হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, এর পরেই স্বল্প স্কোরের ব্যবধানে দ্বিতীয় হয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি হয়েছে তৃতীয়, এরপরেই স্বল্প ব্যবধানে রয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। 

এই র‍্যাংঙ্কিং-এর পরিবর্তনে দেখা যায়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এ বছর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে টপকে প্রথম হয়েছে, আর ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (ইডব্লিউইউ) চার ধাপ উপরে উঠে এসে অবস্থান নিয়েছে তিন-এ। প্রথম ১০টির মধ্যে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) যথাক্রমে তিন ও একধাপ উপরে উঠে এসেছে।

এরপরের ১০টি ক্যাটাগরিতে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চিটাগাং, প্রথমবার র‍্যাঙ্কিং-এ অন্তর্ভুক্ত হলেও ১১তম অবস্থানটিরয়েছে তাদের দখলে। 

ব্র্যাক, গত বছর যেটি প্রথম অবস্থানে ছিল, স্বল্প ব্যবধানে ফ্যাকচুয়াল স্কোরে প্রথম হয়েছে। এদিকে, নর্থ সাউথ আবারও পারসেপচুয়াল স্কোরে প্রথম হয়েছে এবং এ বছরর‍্যাংকিংয়ে প্রথম হওয়ার জন্য যথেষ্ট সামগ্রিক স্কোর অর্জনে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই র‍্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ বিবেচনায় আনা হয়নি, তবুও এটি একজন শিক্ষার্থীকে সেরা বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। একজন শিক্ষার্থীর অর্থনৈতিক সক্ষমতার ভিত্তিতে সেরা বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের ক্ষেত্রে এই র‍্যাংকিংসহায়কহবে বলে আশা করা যায়। একজন শিক্ষার্থী যদি তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে না পারে, তাহলে তার বা তার পরিবারের হয়তো সেইখরচেরমধ্যেইবেশি স্কোর পাওয়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের সুযোগ থাকবে।

এই সমস্যার সমাধানে সাহায্য করতে সেরা ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি এর পরিমাণ তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরাহয়েছে।

ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো অরগ-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড গবেষণাটি চালায়।