• শনিবার, আগস্ট ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৬ রাত

ডিমের উৎপাদন ‘কম’ হয়েছে হালদায়

  • প্রকাশিত ১২:১৩ দুপুর মে ২৬, ২০১৯
হালদা
দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী। ঢাকা ট্রিবিউন

মঞ্জুরুল কিবরিয়ার মতে, কলকারখানার বর্জ্য দূষণ, রাবার ড্যাম, তামাক চাষ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি কারণে ডিমের উৎপাদন কম হয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে মা মাছ। 

২৬ মে, শনিবার রাতে কার্প জাতীয় মাছ নদীতে ডিম ছাড়তে শুরু করে। 

জেলেরা জানান, গত দুই দিনের প্রবল বর্ষণের শুরুতেই তারা নৌকা ও ডিম আহরণের জাল নিয়ে তৈরি ছিলেন। কিন্তু শনিবার রাতে যে ডিম সংগ্রহ করা গেছে তা প্রত্যাশার তুলনায় কম। 

গত বছর ২০ এপ্রিল হালদায় ডিম ছেড়েছিল মা মাছ। স্থানীয় জেলেরা ২০১৮ সালের পুরো মৌসুমে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছিলেন।  

হালদা নদী গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করে। জেলেরা রাত ৯টার দিকে ডিম সংগ্রহ শুরু করেন। 

তিনি বলেন, “এ বছর কি পরিমাণ ডিম পাওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসেছিলাম। কিন্তু এটা এখন নিশ্চিত যে, মাছেরা যে ডিম ছেড়েছে তা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।”

মঞ্জুরুল কিবরিয়ার মতে, কলকারখানার বর্জ্য দূষণ, রাবার ড্যাম, তামাক চাষ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি কারণে ডিমের উৎপাদন কম হয়েছে।

“তাছাড়া কম বৃষ্টিপাত ও ঢলের অভাবও  ডিমের উৎপাদন কম হওয়ার জন্য অনেকাংশে দায়ী,” বলেন মঞ্জুরুল কিবরিয়া। 

এ বছর ডিমের উৎপাদন কম হওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “গতবারের তুলনায় এ বছর ডিমের উৎপাদন কম হয়েছে। তবে সেটা খুব বেশি কম নয়।” 

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা। 

সাধারণত পানির পরিবেশ পরীক্ষা করার জন্য পুরোপুরি ডিম ছাড়ার আগে মাছেরা নমুনা ডিম ছাড়ে। শনিবার সকালে চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো নমুনা ডিম ছেড়েছে মাছেরা। এর আগে গত ৫ মে, প্রথমবারের মতো নমুনা ডিম ছেড়েছিল। 

প্রতিবছর বৈশাখ থেকে জৈষ্ঠ মাসে (এপ্রিল-মে) কার্প জাতীয় মা মাছেরা যেমন রুই, কাতলা, কালিবাউস, মৃগেল ইত্যাদি ডিম ছাড়ার জন্য কর্ণফুলী, মাতামহুরী, সাঙু নদী থেকে হালদা নদীতে আসে।     

হালদা নদী চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। নদীটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র। প্রতিবছর মৌসুম এলেই নদীটি থেকে জেলেরা বিশেষ উপায়ে মাছের ডিম ও রেণু পোনা সংগ্রহ করেন। 

ডিম সংগ্রহের পর জেলেরা তা বিশেষ উপায়ে মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করেন এবং মৎস্য বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে হ্যাচারিগুলোর কাছে বিক্রির জন্য রাখা হয়। সাধারণত ডিম সংগ্রহের ৯৬ ঘন্টা পর ডিমগুলো রেণু পোনায় পরিণত হয়।