• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৬ দুপুর

১৬ জনকে আসামি করে নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিট প্রস্তুত

  • প্রকাশিত ০৯:৫৮ সকাল মে ২৭, ২০১৯
নুসরাত
নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি।

আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দিতে যাচ্ছে পিবিআই

আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও মাকসুদ আলমসহ ১৬ জনকে আসামি করে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট প্রস্তুত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলা তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিবিআইয়ের একাধিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই সব তথ্য  জানা গেছে।

আগামী দুই-চার দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেবে তদন্ত সংস্থাটি। চার্জশিটে অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলাকে নুসরাতকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে এবং  আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও মাকসুদ আলম ঘটনার অর্থায়ন এবং আশ্রয়দাতার কাজ করেছেন বলে বলা হয়েছে । এছাড়া মামলায় গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে তদন্তে ৫ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলেও পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

এ প্রসঙ্গে ফেনী পিবিআইয়ের  পরিদর্শক মো. শাহ আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "আমরা মামলার তদন্তভার পাওয়ার আগেই সোনাগাজী থানার পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন মো. আফসার উদ্দিন, মো কেফায়েত উল্যাহ, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. আলা উদ্দিন, মো. নূর হোসেন ওরফে হোনা মিয়া, মো. সাইদুল ইসলাম ও উম্মে সুলতানা পপি। এদের  মধ্যে ঘটনার সঙ্গে কেবল মাদ্রাসা শিক্ষক আফসার উদ্দিন ও মাদ্রাসার ছাত্রী উম্মে সুলতানা পপির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে"।

"গত ২৪ এপ্রিল আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মাদ্রাসা শিক্ষক এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। অধ্যক্ষ তার জবানবন্দিতে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন ও সোনাগাজী পৌরসভা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদ আলমের কথাও উল্লেখ করেছেন", যোগ করেন তিনি।

পিবিআইয়ের এই তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, "তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া ১৬ জনের মধ্যে অধ্যক্ষ ছাড়াও সাতজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এই আটজনের জবানবন্দিতে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় উম্মে সুলতানা, কামরুন নাহার, শাহাদাত হোসেন, জাবেদ হোসেন ও সাইফুর রহমান মো. জুবায়েরের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই পাঁচজন মিলে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলাকে তাঁরা হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে দেখছেন। এই নৃশংস এই   হত্যাকাণ্ডের ১৬ জনকে আসামি করে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তুতকৃত চার্জশিটটি  উদ্ধর্তনদের নির্দেশ ক্রমে  আগামী দুই চার দিনের মধ্যে আদালতে জমা দিতে পারবো বলে আশা করছি"।

এদিকে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, "আমরা ইতোমধ্যে সিআইডির রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন পেয়েছি। ওই প্রতিবেদনে নুসরাতের পোশাকে কেরোসিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যা মামলার তদন্তে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে।" 

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে চাপ প্রয়োগের পরও নুসরাত সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতকে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ করে সিরাজের টাকা দিয়ে পোষা অনুসারীরা। এতে নুসরাতের শরীরে ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নুসরাত।