• রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩০ সকাল

কেটে ফেলা হলো কনস্টেবল পারভেজের পা

  • প্রকাশিত ০৮:৪৫ রাত মে ২৮, ২০১৯
কনস্টেবল পারভেজ
দুর্ঘটনা কবলিত বাস থেকে যাত্রীদেরকে উদ্ধারকাজে ব্যস্ত কনস্টেবল পারভেজ সংগৃহীত

২০১৭ সালের ৭ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চাঁদপুরগামী একটি দুর্ঘটনা কবলিত বাস থেকে ২৫-২৬ জন যাত্রীর জীবন বাঁচিয়েছিলেন পারভেজ।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ডোবায় নিমজ্জিত বাসের ২০ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ। কিন্তু সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তার ডান পা থেঁতলে যায়। মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল গণি মোল্লা বলেন, অস্ত্রোপচার করে পারভেজের পায়ের থেঁতলে যাওয়া অংশটুকু কেটে ফেলা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের তাকে আবারও আইসিইউতে রেখে শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৭ মে) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মুন্সীগঞ্জ জেলার জামালদি বাসস্ট্যান্ডে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন পারভেজ। দুর্ঘটনায় ডান পায়ের গোড়ালি ও হাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথমে ‘ট্রমালিংক’র স্বেচ্ছাসেবক দল তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে পাঠানো হয় পারভেজকে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং সবশেষে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পঙ্গু হাসপাতালে কনস্টেবল পারভেজের জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের চিকিৎসকরা পারভেজের জীবন বাঁচাতে তার ডান পা কেটে ফেলার পরামর্শ দিলে পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে অস্ত্রোপচার করে তার পা কেটে ফেলা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৭ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় পড়ে গেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন যখন দাঁড়িয়ে দুর্ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার কনস্টেবল পারভেজ মিয়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ময়লা পানিতে লাফিয়ে পড়েবাসে আটকা থাকা ২৫-২৬ জন যাত্রীর জীবন বাঁচান।

পারভেজ মিয়ার ওই সাহসিকতার জন্য দেওয়া হয় পুলিশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম)। এছাড়া নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল দেন আইজিপি।