• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০০ রাত

ব্যাংক ম্যানেজার ছেলের অত্যাচারে মন্দিরে আশ্রয় নিলেন ৮১ বছর বয়সী মা

  • প্রকাশিত ০২:৪০ দুপুর মে ২৯, ২০১৯
বৃদ্ধা
ছেলে-পূত্রবধূর বাড়ি ছেড়ে মন্দিরে আশ্রয় নেন ৮১ বছর বয়সী বৃদ্ধা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

কারণে-অকারণে ছেলে ও তার স্ত্রী তাকে মারপিট করেন। বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের পোদ্দারপাড়া সার্বজনীন পুজা মন্ডপে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। কিন্তু বৃদ্ধা তার স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটে ঘরেই জীবনের শেষ পর্যন্ত থাকতে চান।

নড়াইলের লোহাগড়ায় ছেলে ও পুত্রবধূ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক বৃদ্ধ মা স্থানীয় মন্দিরে আশ্রয় নেবার খবর পাওয়া গেছে। 

২৮ মে, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় পোদ্দারপাড়া সার্বজনীন পুজা মন্ডপে আশ্রয় নেন ওই বৃদ্ধাকে দেখতে ভীড় করে এলাকার লোকেরা।

নির্যাতনের শিকার শেফালী রাণী রায় (৮১) লোহাগড়া পৌর এলাকার পোদ্দারপাড়া গ্রামের মৃত চিত্ত রঞ্জন রায়ের স্ত্রী। 

নির্যাতনের শিকার ওই বৃদ্ধা জানান, দীর্ঘদিন থেকে তার বড় ছেলে শংকর কুমার রায় ও তার স্ত্রী কণা রাণী রায়ের নির্যাতনের কারণে নিজ বসত ঘরে থাকতে পারছিলেন না তিনি। কারণে-অকারণে ছেলে ও তার স্ত্রী তাকে মারপিট করেন। বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের পোদ্দারপাড়া সার্বজনীন পুজা মন্ডপে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। কিন্তু বৃদ্ধা তার স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটে ঘরেই জীবনের শেষ পর্যন্ত থাকতে চান।

স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধার ২ ছেলে ও ৪ মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে শংকর রায়, কৃষি ব্যাংকের শাখা ব্যাবস্থাপক। শংকর রায় পিতার রেখে যাওয়া প্রায় অর্ধকোটি টাকার জমির ওপর দ্বিতল ভবনে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। অপর ছেলে বিশ্বনাথ রায়, যশোরের ঢাকা রোডে মোটর পার্টস ব্যবসায়ী। তিনি স্ত্রী কৃষ্ণা রায় ও সন্তানদের নিয়ে যশোরে বাসা ভাড়া করে বাস করেন। মায়ের তেমন একটা দেখভাল তিনি করেন না। এ ছাড়া মেয়ে মিনতী সাহা, কনিকা সাহা, মনিকা সাহা ও ছবি রাণী সাহা, সকলকেই ভাল পাত্রস্থ করেছেন চিত্ত রঞ্জন ও বৃদ্ধা শেফালী। মেয়ে মিনতী সাহার বড় ছেলে আমেরিকা প্রবাসী। অন্য মেয়ের সন্তানরাও বেশ বিত্তশালী। 

এদিকে, বৃদ্ধার মন্দিরে আশ্রয় নেবার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয়া ভীড় জমান। বিষয়টি টের পেয়ে ছেলে শংকর রায় সেখানে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, মা রাগ করে বাড়ি থেকে এসে মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি মাকে বাড়িতে নেওয়ার জন্য এসেছেন। 

এ সময় স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান, বাড়িতে নিয়ে বৃদ্ধাকে ফের মারপিট করবে শংকর ও তার স্ত্রী।

এ বিষয়ে লোহগড়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মোকাররম হোসেন বলেন, “রাতেই ঘটনাটি শুনে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঘটনাটির ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”