• সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩ রাত

ঈদকে সামনে রেখে ফিটনেসবিহীন গাড়ি মেরামতের তোড়জোড়

  • প্রকাশিত ০৪:২৯ বিকেল মে ২৯, ২০১৯
বাস মেরামত
মেরামতের জন্য ঠেলে ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ফিটনেসবিহীন বাস ঢাকা ট্রিবিউন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজানের ২৫ থেকে ২৬ তারিখের মধ্যেই লক্কর-ঝক্কর এসব গাড়িকে নামেমাত্র মেরামত করে রাস্তায় নামানো হবে।  

ঈদ উপলক্ষে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্কশপে চলছে লক্কর-ঝক্কর যানবাহন মেরামত আর রং করার কাজ। খোলস পাল্টে, রং করে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে পুরনো গাড়িগুলোকে। ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো মেরামত শেষে রাস্তায় নামালে দেখে বোঝার উপায় নেই আসল অবস্থা। 

ঈদ যাত্রায় এসব যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশংকা যাত্রীদের। তবে, খোঁজ নিয়ে এসব ফিটনেস বিহীন গাড়ি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। 

সরেজমিনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘেঁষা মানিকগঞ্জের উঁচুটিয়া এলাকাসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপে গিয়ে দেখা গেছে, ফিটনেসবিহীন পুরনো বাসগুলো মেরামতের কাজ চলছে পুরোদমে। ভাঙা যানবাহনগুলোকে ঝালাই করে জোড়াতালি দিতে মিস্ত্রিরা কাজ করে যাচ্ছেন দিনরাত। গাড়িগুলোর কোনো কোনোটির ইঞ্জিন দুর্ঘটনায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া, ব্রেকে সমস্যা, রং ওঠা, কোনো কোনোটির আবার সিটগুলো ছেঁড়া।

চলছে মেরামতের কাজ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঈদের সময় বাড়তি যাত্রীর আশায় বহু বছরের পুরনো এসব গাড়ি মেরামত করে নতুন সাজে রাস্তায় নামানোর জন্যই আনা হয়েছে ওয়ার্কশপে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজানের ২৫ থেকে ২৬ তারিখের মধ্যেই লক্কর-ঝক্কর এসব গাড়িকে নামেমাত্র মেরামত করে রাস্তায় নামানো হবে।   

মানিকগঞ্জের ‘রাব্বি ওয়ার্কশপ’ নামে একটি গাড়ি সারাইয়ের কারখানায় গিয়ে দেখা গেলো পুরনো গাড়িতে রঙের কাজ করছেন মিস্ত্রিরা। কাজের ফাঁকে মিস্ত্রি উজ্জল ঢাকা ট্রিবিউনকে জানালেন, ঈদে যাত্রীদের আকৃষ্ট করতেই রং করে পুরনো গাড়িগুলোকে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে।

ওয়ার্কশপটির পরিচালক সানোয়ার মিয়া বলেন, এবারের ঈদে গাড়ির কাজ কম হচ্ছে। তবে যেসব গাড়ি মেরামতের জন্য এসেছে তাদের বেশিরভাগেরই রুট পারমিট নেই। ঈদের দু'-চার দিন আগে মেরামত শেষে এগুলোকে মালিকদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। 

বাস চালক কুদ্দুস মিয়া জানান, ঈদের সময় সব যাত্রীই চায় ভাল গাড়িতে উঠতে চান। তাই বাসের ভেতরের সিট ও বডিতে রংয়ের কাজ করার জন্য আনা হয়েছে। ঈদের সময় গাড়ির ফিটনেস না থাকলে পুলিশ ধরে। তাই গাড়িগুলোতে চাকচিক্য আনা হচ্ছে। এতে অন্যান্য সময়ের চেয়ে ঈদের সময় কিছু বাড়তি আয় করা যায়।

পুরনো গাড়িকে রং করে দেওয়া হচ্ছে নতুন রূপ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

আশেপাশের প্রায় সবগুলো গাড়ির ওয়ার্কশপে ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র।

স্থানীয় যাত্রীরা জানান, রং করে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানোর ফলে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। আসলে এই গাড়িগুলো ‘ওপরে ফিটফাট, ভেতরে সদর ঘাট’। এগুলো বন্ধ না হলে ঈদে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

বিষয়টি অবগত করা হলে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ফিটনেস বিহীন গাড়ি যাতে রাস্তায় চলাচল করতে না পারে সে জন্য চেকিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে এসব লক্করঝক্কর গাড়ি যাতে রাস্তায় না নামতে পারেসেজন্য এখন থেকেই পুলিশ জোরালো পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া, মহাসড়কে যাতে তিন চাকার যান চলাচল করতে না পারে সে দিকেও পুলিশ সজাগ থাকবে। জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে এ বিষয়ে কাজ করে যাবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।