• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

মাগুরার ডিসি: রাজা সীতারাম রায়ের পালঙ্কে নয়, ফ্লোরে ঘুমাই

  • প্রকাশিত ০৯:৪২ রাত মে ৩১, ২০১৯
মাগুরার ডিসি
মাগুরার জেলা প্রশাসক আলী আকবর ঢাকা ট্রিবিউন

খোঁজ নিয়ে যতদূর জানা যায়, পালঙ্কটির শেষ অবস্থান ছিল ট্রেজারি রুমের পাশে রেকর্ড রুমের দলিল-দস্তাবেজের মধ্যে।

‘রাজা সীতারাম রায়ের পালঙ্কে ঘুমাচ্ছেন মাগুরার ডিসি’ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক দাবি করেছেন, কোনো পালঙ্কে নয় বরং তিনি ফ্লোরে ঘুমান।

১৬৮৬ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজসভা থেকে রাজা উপাধি লাভ করেন সীতারাম রায়। প্রতাপশালী এই রাজার রাজত্বের সীমারেখা ছিল উত্তরে পাবনা এবং দক্ষিণে সুন্দরবন পর্যন্ত। বর্তমান মাগুরার মহম্মদপুরে গড়ে তোলেন রাজধানী। স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সেখানে এখনও রয়েছে তার রাজপ্রাসাদ, কাছারি বাড়ি, দোলমঞ্চসহ আরও বেশকিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন। তিনি অস্ত্র তৈরির কামারশালাও গড়ে তুলেছিলেন। প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর রাজা সীতারাম রায়ের রাজপ্রাসাদ এবং দোলমঞ্চটিতে সংস্কার কাজ চালালেও কালের বিবর্তনে রাজপ্রসাদ থেকে হারিয়ে গেছে বহু মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজা সীতারামের অস্ত্র ভাণ্ডারের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কয়েকটি তলোয়ার বর্তমানে মহম্মদপুর থানায় পুলিশের মালখানায় রয়েছে। আর যে পালঙ্কটিতে রাজা বিশ্রাম নিতেন সেটি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল মাগুরা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে। নতুন ভবন নির্মাণ এবং সংস্কার কাজের সুবিধার জন্য সেটিকে ট্রেজারি থেকে কখনো রেকর্ডরুমের স্তুপে, কখনোবা জিমখানার অন্যান্য অব্যবহৃত উপকরণের পাশে রাখা হয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে যতদূর জানা যায়, পালঙ্কটির শেষ অবস্থান ছিল ট্রেজারি রুমের পাশে রেকর্ড রুমের দলিল-দস্তাবেজের মধ্যে।

মাগুরা জেলা প্রশাসনের নেজারত, ট্রেজারি এবং রেকর্ড রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি পালঙ্কটি মাগুরার এনডিসি রাজিব চৌধুরীর সহায়তায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে রাজিব চৌধুরীর সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, সীতারামের একটি মূল্যবান পালঙ্কের কথা শুনেছি। কিন্তু এখন কোথায় কীভাবে আছে সেটি আমার জানা নেই।

তবে পালঙ্কটি দীর্ঘদিন রেকর্ডরুমে সংরক্ষিত ছিল বলে জানিয়েছেন এই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাবেক কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইসাহাক আলী।

রেকর্ডরুমের বর্তমান দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, পালঙ্কটি আগে রেকর্ড রুমে থাকলেও এখন নেই। কিন্তু কেন নেই তাও জানা নেই।

জানতে চাইলে মাগুরা জেলা প্রশাসক আলী আকবর ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, পালঙ্কটি দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রশাসক বাংলোতেই রয়েছে। আমার আনার প্রশ্নই ওঠেনা। বরং এটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল বিধায় আমি মেরামত ও রং করিয়েছি।

পালঙ্কটি কেন জাদুঘরে পাঠানো হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার আগের জেলা প্রশাসক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে এটি গ্রহণ করার জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছেন কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা এটিকে গ্রহণ করেননি। এত মূল্যবান সম্পত্তিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ গ্রহণ না করলে আমি কি রাস্তায় ফেলে দেব? জেলা প্রশাসক হিসেবে সম্পদটি সযত্নে সংরক্ষণের স্বার্থেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।

পালঙ্কে ঘুমানো প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই আমার ফ্লোরে ঘুমানো অভ্যাস। এখনো আমি ফ্লোরেই ঘুমাই। রাজার পালঙ্কে ঘুমানোর প্রশ্নই ওঠেনা।

এ বিষয়ে মাগুরার সাবেক জেলা প্রশাসক বর্তমানে রেল মন্ত্রীর সচিবের দায়িত্বে থাকা আতিকুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার সময়ে পালঙ্কটি ট্রেজারিতেই ছিল। বাসভবনে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। বর্তমান জেলা প্রশাসক একজন দক্ষ কর্মকর্তা। ট্রেজারি বা রেকর্ড রুম থেকে কোনো কিছু বের করা হলে অবশ্যই সেটার রেকর্ড থাকবে। আশা করি সুষ্ঠু তদন্ত হলে এর জবাব মিলবে।