• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৩ রাত

দেড় হাজার নমুনা নিয়ে পদ্মা সেতু যাদুঘর

  • প্রকাশিত ০৬:৩০ সন্ধ্যা জুন ৩, ২০১৯
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আওতায় গড়ে উঠছে পদ্মা সেতু যাদুঘর। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আওতায় গড়ে উঠছে পদ্মা সেতু যাদুঘর। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

পদ্মা সেতুর কাজের পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়ায় এ যাদুঘরের কার্যক্রম চলছে।

জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আওতায় গড়ে উঠছে পদ্মা সেতু যাদুঘর। পদ্মা সেতুর কাজের পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়ায় এ যাদুঘরের কার্যক্রম চলছে।

যাদুঘরের জন্য স্থানীয় এলাকাসহ সারাদেশ থেকে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০-এর বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। এ কাজে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা।

যাদুঘর সূত্রে জানা গেছে, ২১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর ৫৬টি নমুনা ও ৩৪ প্রজাতির পাখির ১৬২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সংগ্রহ করা হয়েছে ২২ প্রজাতির উভচর প্রাণীর ৪৪টি নমুনা। আরও আছে ২৯৭ প্রজাতির মাছের ৩০৩টি, ২৫৯ প্রজাতির শম্বুকজাতীয় কোমলাঙ্গের প্রাণীর ২৬০টি, ৫৯ প্রজাতির কঠিন আবরণযুক্ত জলজ প্রাণীর ৬৩টি, ১৫৯ প্রজাতির প্রজাপতি ও মথের ১৯৭টি, পোকামাকড়ের মোট ১৫৮ প্রজাতির ৩১৬টি এবং অন্যান্য আরও ৩৭ প্রজাতির কীটপতঙ্গের ৫০টি নমুনা। 

এ ছাড়া ২৭ ধরনের ৩১টি মাছ ধরার সরঞ্জামাদি, ১৯ ধরনের পাখির বাসা, ১১ ধরনের পাখির ডিম ও আট ধরনের কংকালও সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হচ্ছে। এ সব নমুনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-গঙ্গা নদীর শুশুক, চিতাবাঘ, বাবুবাটান পাখি, হলুদ সাপ, বান মাছ, ইলিশ মাছ, মাগুর মাছ ইত্যাদি। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যাদুঘরের এক কর্মকর্তা জানান, 'সেতুর কাজের সাথেই এগিয়ে যাচ্ছে পদ্মা সেতু যাদুঘর। প্রাণীবিদ্যা বিভাগ এটি করে দিচ্ছে। প্রকল্প এলাকা বা এর আশেপাশে যত প্রাণী পাওয়া যায় তার সবগুলোর নমুনা এখানে প্রক্রিয়াজাত করে রাখা হবে। এভাবে ২০০ থেকে ৫০০ বছর পর্যন্ত প্রাণীর মরদেহ প্রক্রিয়াজাত করে রাখা যায়। এছাড়া, এলাকায় যেসকল নৌকা চলে তার নমুনা রাখা হবে। যাদুঘরে থাকবে মাছ ধরার সরঞ্জামাদির নমুনা, পাখির বাসা, ডিম ইত্যাদি। প্রায় ১ হাজার ৫০০ এর অধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সকল নমুনা সংরক্ষণ করা হবে যাতে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা দেখতে পারে। এ যাদুঘর শিক্ষা ও গবেষণায় ভূমিকা রাখবে।'

যাদুঘরের কিউরেটর আনন্দ কুমার দাস জানান, 'বর্তমানে আমাদের সংগ্রহে যে সকল প্রাণীর দেহ আছে তার প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরা সেতু উদ্বোধনের দিন থেকে দর্শনার্থীদের জন্য যাদুঘর উন্মুক্ত করে দিতে পারব। তবে, বর্তমানের সংগ্রহশালায় তা হবে না। সেজন্য যাদুঘরের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।'