• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

গোপালগঞ্জে গির্জায় বোমা হামলা: ‘বিচারের জন্য আর কত অপেক্ষা?’

  • প্রকাশিত ০৪:০৩ বিকেল জুন ৭, ২০১৯
গির্জা
বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

‘এ ঘটনায় ঘটনায় দায়েকৃত হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২২ বার বদল হয়েছে। এ কারণে সিআইড অভিযোগ গঠন করেনি। ফলে আদালত বিচার কাজ শুরু করতে পারছে না। আমরা বিচারের জন্য আর কত কাল অপেক্ষা করবো। আমি দ্রুত এ বোমা হামলার বিচার চাই।’

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জায় বোমা হামলার বিচার দীর্ঘ ১৮ বছরেও শুরু করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নিহতদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিচারের জন্য আর কত দিন অপেক্ষা করবেন এমন প্রশ্ন তুলছেন। 

২০০১ সালের ৩ জুন বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জায় সাপ্তাহিক প্রাথর্না চলাকালে বোমা হামলায় প্রার্থনারত ১০ জন নিহত হন। আহত হন অর্ধ-শতাধিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। নিহতরা হলেন, রক্সিড জেত্রা, বিনোদ দাস, মন্মথ সিকাদার, সঞ্জীবন বাড়ৈ, পিটার সাহা, অমর বিশ্বাস, সতীশ বিশ্বাস, ঝিন্টু মন্ডল, মাইকেল মল্লিক ও সুমন হালদার। 

ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় ওই গির্জার তৎকালীন ফাদার পিতাঞ্জা মিম্মো বাদী হয়ে হত্যা ও পিটার বৈরাগী বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেন। মামলা দুটিতে ৩৭ জনকে আসামি করা হয়। থানা থেকে  মামলা দুটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়। দু’ মামলার প্রধান আসামি হরকাতুল জেহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সির ফাঁসি অন্য মামলায় কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলার ১২ আসামি জামিনে রয়েছে। পলাতক রয়েছেন ৬ জন ও কারাগারে রয়েছেন ৭ আসামি।

বোমা হামলার ঘটনায় নিহত সুমন হালদারের বাবা শুখরঞ্জন হালদার বলেন, “এ ঘটনায় ঘটনায় দায়েকৃত হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২২ বার বদল হয়েছে। এ কারণে সিআইড অভিযোগ গঠন করেনি। ফলে আদালত বিচার কাজ শুরু করতে পারছে না। আমরা বিচারের জন্য আর কত কাল অপেক্ষা করবো। আমি দ্রুত এ বোমা হামলার বিচার চাই।” 

মুকসুদপুরের বানিয়ারচর গির্জার ফাদার ফরেজা রোম রিকো গমেজ বলেন, “নিহতদের স্মরণে সোমবার (৩ জুন) গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা, শোক র‌্যালি, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন,সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ ছাড়া বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “ঘটনার ১৮ বছর পার হলেও এ ঘটনার বিচার শুরু করা হয়নি। নিহতদের স্বজনরা ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আমি দ্রুত এ ঘটনায় চার্জশিট আদালতে দাখিল করে বিচার শুরুর দাবি জানাই।”

গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি মো. আব্দুল হালিম বলেন, “১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সিআইড এখন পর্যন্ত এ মামলার চার্জশীট আদালতে দাখিল করতে পারেনি। সিআইডি দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দিলে বিচার কাজ শুরু করা হবে।”

সিআইডির গোপালগঞ্জ ক্যাম্পের ওসি ফতেহ মো. ইফতেখারুল আলম বলেন, “এ মামলা দুটিতে বেশ কয়েকজন জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। এ ব্যাপারে  তদন্ত কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব  এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।”