• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তার বাড়িতে ঢোকায় মানসিক প্রতিবন্ধীকে অমানবিক নির্যাতন

  • প্রকাশিত ০৮:৩২ রাত জুন ৭, ২০১৯
নির্যাতন
প্রতীকী ছবি।

অসহায় তরুণের হাজার আহাজারিতেও মন গলেনি সাবেক ওই কাস্টমস কর্মকর্তার

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ভুল করে সাবেক এক কাস্টমস কর্মকর্তার বাড়িতে ঢোকায় 'চোর' সন্দেহে হাত-পা বেঁধে মানসিক ভারসাম্যহীন এক তরুণকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সকালে উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে বলে বাংলা ট্রিবিউনের একটি খবরে বলা হয়। মুখলেসুর রহমান খান শাহান নামের ওই সাবেক কর্মকর্তার নির্দেশে ওই তরুণের উপর অন্তত ১৫ মিনিট ধরে অত্যাচার চালানো হয়।

এদিকে এই ঘটনার ধারণকৃত একটি ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারিদিকে নিন্দার ঝড় ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, মুখলেসুর রহমানের বাড়ির কেয়ারটেকার সাজ্জাদ হোসেন হিটলার বাড়ির মালিকের নির্দেশে লাঠি দিয়ে ওই হতভাগ্য তরুণকে নির্মমভাবে মারপিট করছেন। এসময় তাকে আরও কয়েকজন ব্যক্তি সহযোগিতা করেন। বাড়ির মালিক মুখলেসুরকেও এসময় পাশে একটি চেয়ারে বসে নির্দেশ দিতে দেখা যায়। মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকের শত কান্না এবং আহাজারিও তার মন টলাতে পারেনি। নির্মম এই ঘটনার সময় শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো প্রতিবাদ করেননি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর স্বজনরা ছুটে এলে জোর করে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ওই যুবককে ছেড়ে দেয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার ভুক্তভোগী মোশাররফ তাড়াইলের সাচাইল ইউনিয়নের শামুকজানি গ্রামের কেন্তু মিয়ার ছেলে। দুই-তিন মাস আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকে তাকে বাসায় আটকে রাখা হতো। তবে কিছুদিন থেকে তার অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ঈদের দিন থেকে তাকে ঘরের বাইরে বেরোতে দেওয়া হয়। এরপরেই এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি চাউর হলে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী মুখলেসুর রহমানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা নির্মম এই ঘটনার বিচার দাবি করেন। পরে পুলিশ এ ঘটনায় কেয়ারটেকার হিটলারকে আটক করে। এছাড়াও তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার মোশাররফ হোসেন ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে সান্ত্বনা দেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে নির্যাতনের শিকার মোশাররফের ভাই মো. সাদ্দাম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, "আমরা খবর পেয়ে সেখানে যাই। তাদের হাতে-পায়ে ধরে মিনতি করি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমার সামনেই অনেক মেরেছে আমার ভাইকে। আমার ভাই পাগল এলাকার সবাই জানেন। আমি এর বিচার চাই।"

এদিকে অভিযুক্ত সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা মুখলেসুর রহমান খান শাহান অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের কাছে একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমার প্রাণনাশের চেষ্টায় তিনজন লোক আমার বাড়িতে এসেছিল। দুইজন লোক পালিয়ে গেছে আর এই ছেলেকে ছাদ থেকে ধরা হয়েছিল"। প্রসঙ্গতঃ গ্রামবাসীর বিক্ষোভের সময় তিনি ভুক্তভোগীকে চোর বলে দাবি করেছিলেন।

তাড়াইল থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, "এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই মোশাররফের ভাই সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে তাড়াইল থানায় একটি মামলা করেছেন। একজনকে আমরা ইতোমধ্যে আটক করেছি। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে"।