• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

বিরূপ আবহাওয়ায়ও পর্যটকমুখর সুন্দরবন

  • প্রকাশিত ০৪:৩০ বিকেল জুন ৮, ২০১৯
সুন্দরবন
সুন্দরবনে পর্যটকদের পদচারণা। ছবি: সংগৃহীত

‘বন বিভাগের উচ্চ মহলের নজরদারিটা একটু বাড়ালে বনের এ পর্যটক খাত থেকে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব।’

ঈদের টানা পাঁচদিনের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের করমজলসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মাঝেও এখন বন জুড়ে রয়েছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢল। আর পর্যটকদের টানা এই আনাগোনা আরও বেশ কয়েকদিন থাকবে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগ।  

করমজল বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আর পর্যটন কেন্দ্রের কর্মকর্তা ফরেস্টার আজাদ কবির বলেন, “ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে সব কিছু মিলে টানা দীর্ঘ ছুটি। আর এই ছুটিতে এখানে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ সহস্রাধিক পর্যটক করমজল পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসছেন।”

তিনি বলেন, “এ ছাড়া বনের হাড়বাড়িয়া, হিরণপয়েন্ট, কটকা, কচিখালী ও দুবলাচরসহ বিভিন্ন স্পটে প্রচুর দর্শনার্থীর ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় সেখানে যেতে পারছেনা ভ্রমণ পিপাসুরা। আর তাই এ ভিড়টা করমজল অফিসকেই সামাল দিতে হচ্ছে।”

এই বন কর্মকর্তা আরও বলেন, “প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বল্প সংখ্যক বনের কর্মচারীদের। তারপরও পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিরলস কাজ করছেন তারা। এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে করমজল পর্যটন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।”

বন সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সুন্দরবন ভ্রমনে আসা পর্যটকরা সাধারণ মংলা হয়েই বনে প্রবেশ করে থাকেন। আর মংলা থেকে সবচেয়ে কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান হলো সুন্দরবনের করমজল। এখানে রয়েছে কুমিরসহ বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্র। যাতে রয়েছে মায়াবি হরিণ, বানর, ৭/৮ ফুট সাইজের লবণ ও মিষ্টি পানির কুমির। এগুলো দেখার পাশাপাশি উপভোগ করা যায় বনের হরেক রকম সৌন্দর্য্য। যেসব পর্যটকরা অধিক ব্যয়ে বনের গহীনে যেতে পারেন না তারা স্বল্প খরচেই করমজল ঘুরে দেখেন।

মংলার হোটেল ব্যবসায়ী হিরো মিয়া জানান, এবারের ঈদে একটানা পাঁচ দিনের ছুটিতে আমাদের হোটেলগুলো বেশ জমজমাট। প্রতিটি হোটেলে এক সপ্তাহ আগে থেকেই বুকিং করা শুরু হয়েছে। গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দূর-দূরন্ত থেকে অনেক পর্যটক এসে ফিরে গেছে।

মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি,ভারপ্রাপ্ত) তুহিন মন্ডল বলেন, “এবারের ঈদে টানা সরকারি ছুটির কারণে সুন্দরবন পর্যটকদের আনাগোনা অন্যবারের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই ছুটিতে সুন্দরবনের সৌন্দর্য্য দেখতে এখানে আসে, আর তাদের নিরাপত্তার দেয়ার জন্য আমাদের পুলিশ সদস্যদের সাথে দিতে হয়। বন বিভাগের উচ্চ মহলের নজরদারিটা একটু বাড়ালে বনের এ পর্যটক খাত থেকে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব।”