• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৪৭ রাত

প্রধানমন্ত্রী: কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে

  • প্রকাশিত ১১:৩০ সকাল জুন ১০, ২০১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি : ফোকাস বাংলা

'যদি কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা হয় তাহলে বাংলাদেশে কর্মরত অনেক সংস্থার কর্মকর্তা তাদের চাকরি হারাবেন বলে ভয় করছেন'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার বলেছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা এখানে স্বেচ্ছায় সেবা দিতে এসেছে তারা কখনোই চায় না রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ত্রিদেশীয় সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "প্রকৃতপক্ষে এই সংস্থাগুলো কখনোই চায় না তারা (রোহিঙ্গা) ফিরে যাক।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সমস্যা এখন যেটা আমি দেখছি তা হলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা এখানে (কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে) স্বেচ্ছাসেবা অথবা কাজ করছে তারা কখনোই চায় না কোনো বাস্তুচ্যুত ফিরে যাক। (আসল) সমস্যা এখানেই।"

তিনি বলেন, "যদি কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা হয় তাহলে বাংলাদেশে কর্মরত অনেক সংস্থার কর্মকর্তা তাদের চাকরি হারাবেন বলে ভয় করছেন"।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মিয়ানমারও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চায় না, যা তাদের প্রত্যাবাসনে আরেকটি প্রতিবন্ধকতা।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ তার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে যোগ করে তিনি বলেন, "সমস্যাটা মিয়ানমারের সাথে। মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নিতে চায় না। সেখানেই সমস্যা।"

মিয়ানমারের সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চুক্তি এবং প্রত্যাবাসনের জন্য সম্ভাব্য রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরির পর হঠাৎ করেই তারা নিজ দেশে ফিরে না যাওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখে বলেন, "এই আন্দোলনের প্ররোচনা কারা দিয়েছে?"

তিনি বলেন, "মিয়ানমারে ফিরে গেলে তারা আবারও নিপীড়নের শিকার হবেন সেই ভয়ও তাদের মধ্যে কাজ করছে যা আরেকটি সমস্যা"।

শেখ হাসিনা বলেন, "মিয়ানমারে এখনো রাখাইন জনগণ রয়েছে এবং সদ্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী রাখাইন রাজ্য সফর করেছেন"।

রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীর ভাষানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানেও দাতা সংস্থাগুলোর আপত্তি রয়েছে।

"রোহিঙ্গাদের ভাষানচরে স্থানান্তরের জন্য সরকার সুন্দর বাড়ি ও অবকাঠামো তৈরি করলেও যারা তাদের (রোহিঙ্গা) সহযোগিতা দিয়ে আসছে তাদের আপত্তি রয়েছে", যোগ করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন, ভারত ও জাপানের সাথে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ এবং তারা সবাই একমত যে বাস্তুচ্যুত এসব জনগণ মিয়ানমারের নাগরিক এবং তাদের ফিরে যাওয়া উচিৎ।