• শুক্রবার, আগস্ট ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৩ বিকেল

রোগীকে চিকিৎসক: বিকেলে চেম্বারে আসেন, ভালো করে দেখব

  • প্রকাশিত ০৯:৪৪ রাত জুন ১১, ২০১৯
চিকিৎসক
প্রতীকী ছবি

বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এক রোগীকে তার প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুরে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দাঁতের চিকিৎসা নিতে যান খালেদা বেগম (৩২)। কিন্তু কর্তব্যরত ডেন্টাল সার্জন ডা. আবদুল্লাহ আল বারীর রোগীকে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে যাওয়ার জন্য বলেন।

ওই রোগীর অভিযোগ, দু’দিন ধরে দাঁতের ব্যথায় ভুগে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেন্টাল সার্জন ডা. আবদুল্লাহ আল বারীর (বিডিএস) কক্ষে যান। 

সমস্যা শুনে মুঠোফোনের টর্চ লাইট দিয়ে চিকিৎসক তার দাঁত দেখে বিকেলে উপজেলা সদরের হাসপাতাল রোডের গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালে নিজের প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

রোগী খালেদার বক্তব্য অনুযায়ী, চিকিৎসক তাকে বলেন, “এটা সরকারি হাসপাতাল। এখানে চিকিৎসা করার মতো তেমন যন্ত্রপাতি নাই। বিকেলে আমার প্রাইভেট চেম্বারে আসেন। ভালো করে দেখে দেব।”

এ বিষয়ে রোগীর স্বামী দেলোয়ার হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিত্তহীন রোগীদের প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দিলে তারা যাবে কোথায়?

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল বারী সাংবাদিকদের বলেন, ওই রোগীর দাঁতের ভেতরে ছোট্ট একটি কাঠি দেখা গিয়েছিল। সেটি বের করার মতো কোনো যন্ত্র সরকারি হাসপাতালে নেই। তাই বিকেলে তাকে আমার প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. সাইমুল হুদা বলেন, সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত কোনো সরকারি ডাক্তার কখনো কোনো রোগীকে প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন না। ভুক্তভোগী রোগী আমাকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে, ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. শাহ আলম।