• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩ রাত

ট্রাকচালককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, আটক ১

  • প্রকাশিত ০৭:৫০ রাত জুন ১৬, ২০১৯
নির্যাতন
'শ্লীলতাহানির' অভিযোগে ট্রাকচালক সুকুমার বর্মনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

গত শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে

দিনাজপুরের হিলিতে 'মিথ্যা অভিযোগে' এক ট্রাকচালককে গাছে বেঁধে করায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে হিলির ইসমাইলপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন।

ভুক্তভোগী ওই ট্রাকচালকের নাম সুকুমার বর্মন (৩৫) এবং আটক ব্যক্তির নাম রমিজ উদ্দিন। জানা যায়, পাঁচ বছরের এক শিশুকে 'শ্লীলতাহানির' অভিযোগে তার উপর নির্যাতন চালানো হয়। আটক রমিজ উদ্দিন ওই শিশুর বাবা।

ঘটনা প্রসঙ্গে ট্রাকচালক সুকুমার বর্মন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "ধান লোড দেওয়ার জন্য ট্রাক নিয়ে শুক্রবার দুপুরে হিলির ইসমাইলপুরে যাই। পরে সড়কের পাশে ট্রাক রেখে গরমের কারণে মাথায় পানি দেওয়ার জন্য পাশের নলকূপে যাই। এ সময় সেখানে চার-পাঁচ বছরের একটি শিশু গোসল করছিল। শিশুটির কাছ থেকে মগ নিয়ে মাথা ও হাত-মুখে পানি দিই। পরে মোছার জন্য শিশুটির কাছ থেকে গামছাও চেয়ে নিই। এ সময় তার গায়ে লাল পিঁপড়া দেখে আমি তাকে বলি। সে পিঁপড়ার ভয়ে দ্রুত বাড়িতে যায়। এরপর আমিও সেখান থেকে চলে আসি। কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা-বাবাসহ লোকজন এসে আমাকে ট্রাক থেকে নামিয়ে আম গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। এতে আমার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ফেটে যায়, অনেক রক্তক্ষরণ হয়। বিষয়টি ট্রাক মালিককে জানালে মালিক ও ট্রাক ড্রাইভাররা এসে আমাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে"।

এদিকে ওই শিশুর মা অভিযোগ করেন, "ওই দিন দুপুরে আমার মেয়ে গোসল করছিল। এসময় ওই ট্রাকচালক আমার মেয়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। পরে সে দৌড়ে বাড়ি এসে আমাকে সব খুলে বলে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওই লোকটাকে খুঁজতে বের হই। পরে মেয়ের কথামতো একটি ট্রাকের মধ্যে ঐ লোকটাকে দেখতে পাই। পরবর্তীতে আমার স্বামী এবং গ্রামের লোকজন ঘটনাটি শুনে ওই ট্রাক থেকে তাকে নামিয়ে দু-চারটি চড়-থাপ্পড় মেড়ে ছেড়ে দেয়"।

ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনায় সুকুমার বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে শনিবার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই মূল অভিযুক্ত রমিজ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।