• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

রোহিঙ্গাদের 'তেল-ডাল' খাচ্ছে অন্যরা

  • প্রকাশিত ০৭:৩১ রাত জুন ১৯, ২০১৯
রোহিঙ্গাদের ত্রাণ
বান্দরবানের রাস্তায় এভাবেই প্রকাশ্যে কম দামে বিক্রি হচ্ছে রোহিঙ্গাদের জন্য আসা ত্রাণ। ঢাকা ট্রিবিউন

কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে কম দামে এসব ত্রাণের সামগ্রী সংগ্রহ করে বান্দরবানে নিয়ে এসে বিক্রি করছে

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য আসা ত্রাণ বান্দরবানের বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে।

জানা যায়, রোহিঙ্গা পরিবারের একাধিক সদস্য ত্রাণকার্ড সংগ্রহ করে পরিবারের যা দরকার তার চাইতেও অধিকহারে ত্রাণ সংগ্রহ করে খোলা বাজারে অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। 

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেয়া হচ্ছে চাল, ডাল, সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বেশি ত্রাণ পাওয়ায় রোহিঙ্গারা কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কম দামে এসব ত্রাণের সামগ্রী বিক্রি করছে। পরবর্তীতে ওই ব্যবসায়ীরা এসব মালামাল বান্দরবানে নিয়ে এসে বিক্রি করছে। 

রোহিঙ্গাদের জন্য আসা সাবান, পেস্ট, পুষ্টি পাউডার, তেল, ডাল, ইলেক্ট্রনিক লাইট, ফ্যান এবং প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন মেয়াদোর্ত্তীণ মালামাল প্রকাশ্যে বিক্রি করছে স্থানীয়দের কাছে।   

বান্দরবান বাজারে রোহিঙ্গাদের মালামাল বিক্রেতা মো. লোকমান বলেন, "আমরা কম দামে রোহিঙ্গাদের দেয়া পণ্যসামগ্রী কিনে বাজারে বিক্রি করি। এই ব্যবসা করে বেশ ভালোই চলছি"।

এদিকে কমদামে এইসব মালামাল কিনতে পারায় সাধারণ জনসাধারণও ভীড় জমাচ্ছে এইসব ফুটপাতের দোকানে। রোহিঙ্গাদের ত্রাণের সামগ্রী কিনতে আসা পলাশ রায় বলেন, "কম দাম তাই রাস্তা থেকে রোহিঙ্গাদের ত্রাণের মালামালগুলো কিনে নিচ্ছি"।

এদিকে রোহিঙ্গাদের ত্রাণসামগ্রীর এমন রমরমা ব্যবসার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা। 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, রোহিঙ্গাদের মালামাল যেখানে সেখানে বিক্রি হওয়ায় পন্যের মান কমে যাচ্ছে এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীরা নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বান্দরবান বাজারের টাইম এন্ড সাউন্ড দোকানের কর্মচারী সুজন বলেন, "আমরা ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ভালো মানের ইলেক্ট্রনিক মালামাল কিনে দোকানে বিক্রি করি কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিতরণকৃত অনেক সামগ্রীর মেয়াদও নেই, যা তারা অশিক্ষিত মানুষকে  ঠকিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে"।

বান্দরবান বাজারের ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন বলেন, "আমরা বৈধভাবে লাইসেন্স নিয়ে ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা করে ও ক্রেতা হারাচ্ছি দিন দিন। নিম্মমানের পণ্য কিনে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। আমরা চাই শীঘ্রই প্রশাসন রোহিঙ্গাদের পণ্য বিক্রিকারী ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করবে"।

এদিকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা জানান, ফুটপাথে বিক্রি হওয়া এসব নিম্নমানের মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার প্রত্যুষ পল ত্রিপুরা এ বিষয়ে বলেন, "সড়কের ধারে ফুটপাতে বিক্রি করা যেকোন দ্রব্য কিনতে আমাদের সচেতন হতে হবে। প্রশাসনের উচিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা"।    

এই প্রপ্সঙ্গে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নোমান হোসেন ঢাকা  বলেন, "রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে কম দামে পণ্য সংগ্রহ করে বান্দরবানে বিক্রি করছে এমন তথ্য আমরা পেয়েছি, আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবো"।