• বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৮ রাত

৫৩টি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল করে প্রভাবশালীর মাছের ঘের!

  • প্রকাশিত ০৪:০৫ বিকেল জুন ২০, ২০১৯
গোপালগঞ্জ সংখ্যালঘু
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে সংখ্যালঘুদের চাষের জমির ক্ষতি করে মাছের ঘের ঢাকা ট্রিবিউন

প্রশাসনের নজর এড়াতে কোনো দীর্ঘমেয়াদী (ঈদ, পূজা ইত্যাদি) ছুটি শুরু হলেই তিনি বিলে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মাহমুদপুর বিলে ৫৩টি সংখ্যালঘু পরিবারের মোট ৫৫ বিঘা জমি দখল করে মাছের ঘের বানিয়ে রেখেছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী। ফলে সেখানে বন্ধ রয়েছে চাষাবাদ আর অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি ঈদের ছুটি চলাকালীন রাতের আঁধারে মাটি কাটার জন্য স্কেভেটর এবং শতাধিক শ্রমিককে বিলে নামিয়ে দেন অভিযুক্ত ঘের মালিক দিদার হোসেন। বাধা দিতে গেলে স্কেভেটর দিয়ে পিংকি বিশ্বাস নামে এক গৃহবধূ’র গায়ের ওপর মাটি ফেলা হয়। এতে তার শরীরের প্রায় অর্ধেক মাটিতে দেবে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগীরা বিষয়টি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসককে জানান। পরবর্তীতে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ এস এম মাঈনউদ্দীন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।

ততক্ষণে বিলের দক্ষিণাংশে আরও প্রায় ৩ শ’ গজ বাঁধের কাজ শেষ করেন দিদার। আর এভাবেই তিনি গত চার বছরে বিলের চারদিকে বাঁধ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত তাপস বিশ্বাস জানান, পার্শ্ববর্তী পারুলিয়া গ্রামের প্রভাবশালী দিদার হোসেন মাহমুদপুর বিলের বিভিন্ন জায়গায় ৬২ বিঘা কৃষিজমি কেনেন। ২০১৫ সালের শেষদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মালিকানাধীন বিল-সংলগ্ন ২.৩৭ একর জমি ইজারা নিয়ে মাছের ঘের করার জন্য বিলজুড়ে ‘মাতবর এ্যাগ্রো ফিসারিজ’ নামে মৎস্য প্রকল্পের সাইনবোর্ড টানান। এরপর শুরু করেন বিলের চারপাশে জোরপূর্বক বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ। সেই থেকেই তার কবল থেকে কৃষিজমি রক্ষার জন্য চেষ্টা করে আসছে ভুক্তভোগী ৫৩টি সংখ্যালঘু পরিবার।

তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে পাউবো ওই ইজারা বাতিল করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার গোপালগঞ্জ শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা। তবে এসবে কোনো সুরাহা হয়নি। বরং প্রভাবশালী দিদার হোসেন প্রশাসনের সকল নির্দেশ অমান্য করে প্রতিবছরই একটু একটু করে ওই পরিবারগুলোর মালিকানাধীন কৃষিজমি কেটে মাছের ঘেরের জন্য বাঁধ নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছেন। 

প্রশাসনের নজর এড়াতে কোনো দীর্ঘমেয়াদী (ঈদ, পূজা ইত্যাদি) ছুটি শুরু হলেই তিনি বিলে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। প্রশাসন বাধা না দেওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যান। এভাবে বাঁধ নির্মাণ করে বিলটিকে মাছের ঘেরে পরিণত করেছেন তিনি। 

এ বিলে প্রায় দেড় শ’ বিঘা জমির মধ্যে ৫৫ বিঘা কৃষি জমির মালিক ৫৩টি সংখ্যালঘু পরিবার। ৬২ বিঘার মালিক দিদার হোসেন। বাকি জমির মালিক সরকার।

তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি অভিযুক্ত ঘের মালিক দিদার হোসেন।  

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার সাংবাদিকদের বলেছেন, অবৈধভাবে কেউ সংখ্যালঘু পরিবারের জমির ক্ষতি করে আসছেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক কাশিয়ানীর ইউএনও এবং ওসি’কে নির্দেশ দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কেভেটর তুলে দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন। ইতোমধ্যে ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়েছে। শিগগিরই বিষয়টির একটি শান্তিপূর্ণ এবং স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।