• শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩২ রাত

দুর্নীতির মামলায় কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী

  • প্রকাশিত ০৪:৩৪ বিকেল জুন ২০, ২০১৯
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী
বৃহস্পতিবার দুপুরে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা ট্রিবিউন

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন

বগুড়ার আদালতে দুর্নীতির মামলায় সাবেক পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দূর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে দুদকের পক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি নিজে। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট আল মাহমুদ, অ্যাডভোকেট হেলালুর রহমান জামিন শুনানীতে অংশ নেন।

দুদকের পিপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, "বৃহস্পতিবার সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী স্বেচ্ছায় স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরে তাকে হাজতে পাঠানো হয়েছে"।

মামলার বিবরণ  ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রানীরনগর বাজারে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের পাট ক্রয় কেন্দ্র ছিল। বৃটিশ সরকারের সময় দুই একর ৩৮ শতকের জমিটি সুরুজমল আগরওয়ালা নামে এক ব্যক্তির কাছে হুকুম দখল করা হয়েছিল। বগুড়া শহরের কালিতলা এলাকার মৃত হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ গত ২০১০ সালের ১৩ মে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে জমিটি তিন বছরের জন্য লিজ নেন। প্রতি বছর লিজ মানি ধার্য ছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা। জাহানারা রশিদ এক বছর লিজ মানি পরিশোধ না করেই ওই জমি কেনার জন্য ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। সরকারি জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিতে বা বিক্রি করতে উন্মুক্ত দরপত্র আহবানের নিয়ম থাকলেও সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তা করেননি। তিনি তার পরিচিত জাহানারা রশিদের কাছে দরপত্র ছাড়াই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। লতিফ সিদিকী তার একক সিদ্ধান্তে ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ টাকা ১১ পয়সা মূল্যের জমিটি মাত্র ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকা ১১ পয়সায় বিক্রি করেন। এতে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা ১১ পয়সা আর্থিক ক্ষতি হয়।

এদিকে মূল্যবান ওই জমিটি কম দামে বিক্রি করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন হাইকোর্টে রিট দাখিল করেন। পরে অভিযুক্ত জাহানারা রশিদও সুপ্রীম কোর্টে রিট দাখিল করেন। তবে, তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর এই দু'জনের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে অপরাধের সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় চলতি বছরের গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার আসামি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং স্ত্রী জাহানারা রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।