• বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

ধর্ষণের পর শ্যালিকাকে হত্যা, ছেলের অপকর্মে বাবার আত্মহত্যা

  • প্রকাশিত ০৫:০১ সন্ধ্যা জুন ২২, ২০১৯
মরদেহ
ছবি: প্রতীকী।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ধর্ষণের পর ওই কিশোরীকে হত্যা করা হয়, এরপর থেকে পলাতক রয়েছে নাঈম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে তামান্না আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ছেলের অপকর্ম সহ্য করতে না পেরে অপমানিত হয়ে আত্মহত্যা করেন অভিযুক্ত নাঈম ইসলামের বাবা বসুমিয়া।

শনিবার (২২ জুন) সকালে নবীনগর উপজেলার গোসাইপুর থেলে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, বসু মিয়া শুক্রবার রাত ৮টার দিকে গোসাইপুরে তার খালাতো ভাই শহিদ মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে আসে। সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। 

নবীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রনি সুরে রানা জানান, কয়েকদিন আগে তার ছেলে শ্যালিকা তামান্নাকে ধর্ষনের পর হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছেলের এই অপকর্মের গ্লানি সইতে না পেরে বসু মিয়া আত্মহত্যা করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২০ জুন)  দুপুর সাড়ে ১২টায় সদর উপজেলার নাটাই (দক্ষিণ) ইউনিয়নের শালগাঁও গ্রামে নিহত ওই কিশোরীর ভগ্নিপতির বাড়ি থেকে উদ্ধার করেপুলিশ।নিহত তামান্না আক্তার শালগাঁও গ্রামের নোয়াব মিয়ার মেয়ে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভগ্নিপতি নাঈম ইসলাম (২৭) পলাতক রয়েছেন।

এদিকে, তামান্নার মৃত্যুর পরদিন বড় বোন ও নাঈমের স্ত্রী স্মৃতি আক্তার সাংবাদিকদের জানান, “নাঈম তার বাবা বসু মিয়ার সাথে পৌর শহরের সড়ক বাজারে নৈশ প্রহরীর কাজ করেন। গত সোমবার তামান্নাকে খবর দিয়ে বাড়িতে আনেন নাঈম। বুধবার রাতে তার বাবা বসু মিয়া কাজে গেলেও নাঈম যাননি। স্মৃতি কাজে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে নাঈম জানান, তিনি সকালে ঢাকা থেকে তার মাকে আনতে যাবেন।”

তিনি জানান, “রাত সাড়ে নয়টার দিকে নাঈম আমের জুস নিয়ে তার মেয়ে জান্নাতকে খাওয়ায়। জুস খেয়ে জান্নাত ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর তামান্নাকেও জুস খেতে বললে তামান্না জুস না খাওয়ায় স্মৃতি সেই জুস খান। জুস খাওয়ার সাথে সাথে স্মৃতি অচেতন হয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে ওঠে তামান্নাকে ডাক দিলেও সে কোনো সাড়া দেয়নি। পরে তামান্নার কাছে গিয়ে দেখেন তার শরীর রক্তাক্ত।”