• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহত ৫, আহত আড়াই শতাধিক

  • প্রকাশিত ০৩:১১ রাত জুন ২৪, ২০১৯
উপবন এক্সপ্রেস
সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন উপবন এক্সপ্রেস মৌলভীবাজারে ব্রিজ ভেঙে খাদে পড়ে যায়। ঢাকা ট্রিবিউন

ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে কন্ট্রোল রুম।

সিলেট থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন উপবন এক্সপ্রেস ব্রিজ ভেঙে খাদে পড়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজন  নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

এছাড়া, এ ঘটনায় বহু হতাহতের আশংকা করছে স্থানীয়রা। তবে ঢাকা ট্রিবিউন এখন পর্যন্ত ২৫০ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করতে পেরেছে।

রবিবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলক্রসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার রাত পৌনে ২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, এ দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং আড়াই শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।

ব্রিজ ভেঙে ট্রেনের পেছনের ৫টি বগি ছিটকে নিচে পড়ে গেছে বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার উদয় কুশল সিংহ।

মৌলভীবাজারের পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, দুর্ঘটনায় আড়াই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানায় কন্ট্রোল রুম।

স্থানীয় সাংবাদিক সুশীল সেন গুপ্ত জানান, রাত সোয়া ২টায় চারটি লাশ কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের একজন পুরুষ ও বাকিরা নারী। স্বজনরা কাপড়চোপড় দেখে নিহতদের লাশ শনাক্ত করেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুলাউড়ায় কর্মরত রেলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রবিবার রাত ১০টায় আন্ত:নগর উপবন এক্সপ্রেস সিলেট রেল স্টেশন ছেড়ে যায়। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি কুলাউড়ার বরমচাল স্টেশন সংলগ্ন বড়ছড়া ব্রীজ অতিক্রমের সময় ট্রেন থেকে ৫টি বগি ছিটকে পড়ে। এর মধ্যে একটি বগি ব্রীজের নিচে পড়ে যায়। বাকি বগিগুলো ব্রীজের পাশে কাত হয়ে পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে সেখানে দমকল বাহিনীকে তলব করা হয়। বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সও ঘটনাস্থলে জড়ো করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সযোগে হতাহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটিকে বিকল্প উপায়ে কুলাউড়ায় নিয়ে আসার প্রস্তুতি চালানো হয় বলে জানিয়েছে সূত্রটি। 

মৌলভীবাজার পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ট্রেনের ৫টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর চালক ট্রেনটি চালিয়ে যেতে থাকেন। এক পর্যায়ে যাত্রীদের আর্তচিৎকারে এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে ট্রেনটি থামানো হয়। 

এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জেলার উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেন। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

অন্য একটি সূত্র জানায়, সরকারিভাবে ৪ জনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করা হলেও বেসরকারি হিসাবে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া, উদ্ধার না হওয়া বগির নিচে আরও লাশ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার কবলে পড়া যাত্রীদের আহাজারিতে ভেঙে গেছে রাতের নিস্তব্ধতা। প্রথমে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এরপর দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। 

ট্রেনের যাত্রী দক্ষিণ সুরমার তেলিরাই এলাকার বাসিন্দা শাহীন আহমদ জানান, ট্রেনের বগি উল্টে যাওয়ার পরেও চালক ট্রেনটি চালিয়ে যেতে থাকেন। 

তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর ওই এলাকায় কেবল কান্নার রোল শোনা যায়। যাত্রীদের অনেকে বাঁচার আকুতি করতে থাকেন। 

একটি সূত্র জানায়, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা গত এক সপ্তাহ ধরে ট্রেনের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল  হয়ে পড়েন। ফলে ধারণক্ষমতার চেয়ে অধিক যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি সিলেট থেকে ছেড়ে যায়।