• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

যেসব কারণে ঘটতে পারে এই ট্রেন দুর্ঘটনা

  • প্রকাশিত ০২:১২ দুপুর জুন ২৪, ২০১৯
ট্রেন দুর্ঘটনা
কুলাউড়ায় উদ্ধার তৎপরতা। ঢাকা ট্রিবিউন

সড়ক যোগাযোগ ব্যহত হবার কারণে ট্রেনটিতে অতিরিক্ত বগি লাগানো হয়েছিল

রবিবার রাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেসের ৫ টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে ঠিক কি কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটলো তা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার সকাল বেলা এই তথ্য জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন। তিনি এসময় বলেন, "সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এই সমস্ত ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ লাগিয়ে ছিলাম। এই ট্রেনে ১৭ টি কোচ ছিল"।

তবে কী অতিরিক্ত বগি সংযোগের কারণেই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা? এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে নানা সম্ভাবনার কথা ঢাকা ট্রিবিউনের কাছে তুলে ধরেন আখাউড়া রেলসেকশনের কুলাউড়া জংশনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত যাত্রীবহনকেই বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। 

ট্রাফিক ইনস্পেক্টর আতাউর বলেন, "ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা বেশি থাকাকে দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে আমি মনে করি। প্রাথমিকভাবে এমনটাই ধারণা কর্তৃপক্ষেরও।"

তিনি আরও বলেন, "এছাড়াও আরো অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বন্ধ থাকায় ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন। অতিরিক্ত বগির কারণে ভারসাম্য হারানোটা অসম্ভব নয়। এছাড়াও এসব বগির স্প্রিং গুলো অনেক পুরাতন যার ফলেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।"


আরও পড়ুন: মৌলভীবাজারে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন


"আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ট্রেনের গতি। ট্রেনের গতি কতো ছিল? এই গতিতে অতিরিক্ত বগিসহ  ট্রেনের ভারসাম্য থাকতো কিনা? অন্যদিকে ইঞ্জিনের সক্ষমতা কতখানি? এসমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে তবেই দুর্ঘটনার আসল কারণ বের করা যাবে। তবে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুর্ঘটনার কারণ ওভার লোডিং", যোগ করেন তিনি।

এদিকে দুর্ঘটনার কবলে পড়া ট্রেনের যাত্রী রফিক আলীও বলেন, "ট্রেনের ভেতরে তিল ধারণের ঠাই ছিল না। কোনোরকমে দাঁড়িয়েছিলাম ট্রেনের মধ্যে। আমি ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ২ বগি পেছনে ছিলেন, যার ফলে দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণেই দুর্ঘটনা হয়েছে"।

উল্লেখ্য, রবিবার রাতের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই ঢাকার সাথে সিলেটের রেল-সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।