• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ রাত

যমুনায় বাড়ছে পানি, টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে ভাঙন

  • প্রকাশিত ০৬:২৯ সন্ধ্যা জুন ২৪, ২০১৯
টাঙ্গাইল যমুনা ভাঙন
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মামুদনগরে যমুনার ভাঙন ঢাকা ট্রিবিউন

ভাঙনের কারণে বর্ষার শুরুতেই বাড়িঘর ছেড়েছে পাঁচ শতাধিক পরিবার।

বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি বেড়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে যমুনা তীরবর্তী সদর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরিভাবে বালুর ব্যাগ ফেললেও ভাঙন থামানো যাচ্ছে না। 

ভাঙন আতঙ্কে ইতোমধ্যেই সহস্রাধিক পরিবার বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিগত সময়ে যমুনার গর্ভে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে গেছে ইউনিয়নটির ৭ নম্বর ওয়ার্ড। তাই ভাঙনরোধে একটি স্থায়ী বাঁধের নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টিতে যমুনার পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট ভাঙনরোধে পাউবো’র আপদকালীন তহবিল থেকে ১২টি স্প্যানের জায়গা নির্ধারণ করে প্রতিটিতে তিন হাজারটি বালুর (জিও) ব্যাগ ডাম্পিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে মোতাবেক গত জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। তবে ব্যাগের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অল্প।

জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে মামুদনগর ইউনিয়নের কুকুরিয়া, কেশব মাইঝাইল, মাইঝাইল, সোনা মাইঝাইল, বার বাড়িয়া, চালা বাকলা ও বানিয়াপাড়া গ্রাম যমুনার প্রবল ভাঙনে চরম হুমকির সম্মুখীন। ভাঙনের কারণে এসব গ্রাম থেকে বর্ষার শুরুতেই অন্যত্র চলে গেছে পাঁচ শতাধিক পরিবার। শুধু তা-ই নয় ভাঙনের ফলে পাট, ধান, বাদামসহ বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ইতোমধ্যে যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছরই যমুনার ভাঙনে ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়। মামুদনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পুরোটাই বিলীন হয়েছে যমুনায়। সেখানকার বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে অন্যত্র বসতি স্থাপন করেছেন, কেউবা আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে।

কুকুরিয়া গ্রামের করিম শেখ জানান, তার নিজের এক খাদা(১৬ বিঘা) ফসলি জমি যমুনা গ্রাস করেছে। তিনি আগেই বাজারের পাশে বাড়ি করেছিলেন। এখন সেই বাড়িটিই তার একমাত্র সম্বল। ভাঙনরোধে জরুরিভিত্তিতে বালুর ব্যাগ ফেলেছে পাউবো। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

একই গ্রামের আবু সাইদ জানান, তাদের পরিবারের ১৫০ বিঘা জমির পুরোটাই যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। 

তাদের সবার দাবি, কুকুরিয়া থেকে উজানে চার কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হোক। 

তারা আরও জানান, বর্ষার শুরুতেই ভাঙন শুরু হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরিভাবে ভাঙন কবলিত ৫৫০ মিটার এলাকায় ১২টি স্প্যানে ৩৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলছে। পাউবো’র ধারণা ছিল, এতে স্রোতের গতি পরিবর্তিত হয়ে পশ্চিম দিকে সরে যাবে। কিন্তু স্রোতধারা কিছুটা পরিবর্তিত হলেও ওই স্প্যানগুলোর মাঝেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো স্প্যানের জিও ব্যাগ দেবে নদীর তলদেশে চলে গেছে। ফলে অন্য স্প্যানগুলোও যমুনায় দেবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে মামুদনগর ইউপি চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান তালুকদার বলেন, যমুনা ও ধলেশ্বরীর ভাঙনে এলাকার মানুষ দিশেহারা। একদিকে যমুনা অন্যদিকে ধলেশ্বরীর বিরামহীন ভাঙনে ইউনিয়নবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। ইতোমধ্যেই বসত বাড়ি, বিদ্যালয়সহ ফসলি জমির নদীগর্ভে বিলীন হয়ে প্রায় সহস্রাধিক কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডটি সম্পূর্ণ ভাবে বিলীন হওয়াসহ ভয়াবহ নদী ভাঙনের কবলে পরে প্রায় সর্বশান্ত হয়ে পরেছে সহস্রাধিক পরিবার।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, কুকুরিয়া থেকে উজানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই স্থায়ী বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তবে ভাঙনরোধ ও জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে ওই এলাকায় ১২টি স্প্যানে ৩৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। স্প্যানে জিও ব্যাগ ফেলার কারণে পানির স্রোতের গতি অনেকটা পরিবর্তিত হয়ে পশ্চিম দিকে সরে গেছে। তবে দুই স্প্যানের মাঝে ঘুর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে ভাঙন শুরু হওয়ায় সেখানেও জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আরো পাঁচ হাজার জিও ব্যাগ মজুদ রাখা হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের সাহায্যে পাউবো সদা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।