• বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২ সকাল

৪ কোটি টাকার টার্মিনাল চালু হয়নি ৮ বছরেও

  • প্রকাশিত ১০:১৭ রাত জুন ২৫, ২০১৯
মৌলভীবাজার
পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে মৌলভীবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ছবি: ইউএনবি

‘আমার পূর্বসূরী মেয়র এটি পরিকল্পিতভাবেই নির্মাণ করেছিলেন। যারা বলছেন এটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে তারা ডাহা মিথ্যা বলছেন। এটি ব্যবহার করার জন্য আমি বাস চালক ও মালিকদের অনুরোধ করছি।’

শহরকে যানজটমুক্ত রাখা ও যত্রতত্র গণপরিবহনের অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে চার কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রায় আট বছর আগে উদ্বোধন করা টার্মিনাল এখনো পুরোপুরিভাবে চালু না হওয়ায় অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামো।

ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে যোগিডহর নামক এলাকায় পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ২০০৯ সালের আগস্টে মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন বাস টার্মিনালের উদ্বোধন করেন। কিন্তু পরিবহন মালিকদের অনীহাসহ নানা কারণে বাস টার্মিনাল তখন চালু করা যায়নি।

পরে জেলা প্রশাসন পরিবহন মালিকদের সাথে বৈঠক করে ২০১০ সালের ১ নভেম্বর থেকে বাস টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এতে ঢাকা-মৌলভীবাজার, সিলেট-হবিগঞ্জ, কুমিল্লাসহ আন্তঃজেলার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে কিছুদিন চলাচল করলেও কিছুদিন পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে আজ অবধি টার্মিনালটি আর ব্যবহার করা হয়নি।

এদিকে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে আবারও যত্রতত্র বাসস্ট্যান্ড তৈরি হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট ও ভোগান্তি। শ্রীমঙ্গল রোডে প্রধান সড়কের দুই পাশে ‘ঢাকা বাস স্ট্যান্ড’ নামে বর্তমানে গড়ে উঠেছে জেলার প্রধান বাস স্ট্যান্ড।

সরেজমিনে দেখা যায়, যানবাহন ও মানুষশূন্য টার্মিনালটিতে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। টার্মিনালের পার্কিং এলাকায় পৌরসভার উন্নয়ন কাজের ইট বালু পাথর বিটুমিনসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। মেঝের টাইলস ভেঙে গেছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কক্ষের কাঁচের দরজা খোলা। যানবাহন না আসার কারণে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার নামে বরাদ্দ করা কাউন্টারগুলোও বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাদিক আহমদ জানান, এ টার্মিনালের সামনের রাস্তায় হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের নির্দিষ্ট কয়েকটি বাস ছাড়া আর কোনো বাস থামে না। উদ্বোধনের পর এ বাস স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র অনেক দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছিল, কিন্তু চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

প্রায় তিন একর জায়গা জুড়ে নগর পরিচালনা ও উন্নীতকরণ অবকাঠামো প্রকল্প ও পৌরসভার যৌথ অর্থায়নে এ বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। এতে জমি কেনা, ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে খরচ হয় ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৯ টাকা।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ মছচ্ছিল আলী বলেন, “টার্মিনাল এমন এক এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে দূরপাল্লার কোনো গাড়ি যায় না, চালকেরা যেতে চান না এমনকিসাধারণ মানুষও সেখানে যেতে চান না।”

টার্মিনালে নেমে শহরে যেতে আরও ২০-৩০ টাকা ভাড়া গুনতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “কারো সাথে আলাপ আলোচনা না করে অপরিকল্পিতভাবে পৌর কর্তৃপক্ষ এটি নির্মাণ করেছে। যার ফলে আজ এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।”

মৌলভীবাজার পৌর মেয়র ফজলুর রহমান বলেন, “আমার পূর্বসূরী মেয়র এটি পরিকল্পিতভাবেই নির্মাণ করেছিলেন। যারা বলছেন এটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে তারা ডাহা মিথ্যা বলছেন। এটি ব্যবহার করার জন্য আমি বাস চালক ও মালিকদের অনুরোধ করছি।”