• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

রেললাইনে ফোন ব্যবহারের সময় ৫৩৫ জনের মৃত্যু

  • প্রকাশিত ০৬:০৪ সন্ধ্যা জুন ২৭, ২০১৯
রেলপথ
ট্রেন আসছে তারপরও রেললাইন পার হচ্ছে মানুষ। মাহমুদ হোসাইন অপু/ঢাকা ট্রিবিউন

গত সাড়ে ছয় বছরে রেলপথে প্রায় ৬ হাজার জনের মৃত্যু  হয়েছে


২০১০ সালের পর থেকে রাজধানী ঢাকা এবং এর আশেপাশের এলাকার রেললাইনে কানে হেডফোন লাগিয়ে ফোনে কথা বলা কিংবা গান শুনতে শুনতে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ৫৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ এসব তথ্য জানিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি'র একটি খবরে বলা হয়। 

এ প্রসঙ্গে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ইয়াসিন ফারুকি মজুমদার বলেন, "বাংলাদেশে রেললাইনে হাঁটা কিংবা কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শোনা নিষিদ্ধ। তবে এখনও জনগণ নিয়মের তোয়াক্কা না করে এই কাজগুলো করে চলেছেন।"

২০১৪ সালে এই ধরণের দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ১০৯ জনের মৃত্যু হয়। তবে, পরবর্তীতে পুলিশের বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং কার্যক্রমের ফলে মৃত্যুর হার আগের থেকে কমে আসে। তারপরও গতবছর এই ধরণের দুর্ঘটনায় ৫৪ জন ব্যক্তির প্রাণহানি হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রেলওয়ে পুলিশের ডেপুটি চিফ মোর্শেদ আলম জানান, তারা জনসচেতনতা তৈরির জন্য তারা র‍্যালি বের করেছেন, মিছিল করেছেন এমনকি কি মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা চেষ্টা করেছেন।    

"তারপরও কেউ তোয়াক্কা করেনা। এখনও মানুষ রেললাইনে হাঁটতে যায়। মনে হয় যেন তারা এর ভয়ংকর পরিণতির বিষয় সম্পর্কে কিছুই অবগত নন", যোগ করেন তিনি।   

অন্যদিকে বস্তির লাখ লাখ অধিবাসী এই রেললাইনের গা ঘেঁষেই তারপুলিন এবং বাঁশ ব্যবহার করে ঘর গড়ে তোলে। এছাড়া রেললাইন ঘেঁষে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান গড়ে উঠেছে যা অত্যন্ত বিপদজনক।

মোর্শেদ আলম আরো বলেন, "মানুষ সচেতন না হলে নিরাপদ রেললাইন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।     

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেশের ২,৮০০ কিলোমিটার রেলপথ জুড়ে গত সাড়ে ছয় বছরে প্রায় ৬,০০০ মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রেলপথের অধিকাংশই সুরক্ষিত নয়। অধিকাংশ রেললাইনের পাশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য কোনও ধরণের বেড়া কিংবা সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই। প্রতিবছর দুর্ঘটনা এবং আত্মহত্যার কারণে বাংলাদেশের রেলপথে প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার জনের মৃত্যু হয়ে থাকে।