• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ দুপুর

রাতের আঁধারে গুড়িয়ে দেওয়া হলো ‘ইয়াবা ডন’ জাফরের বাড়ি

  • প্রকাশিত ০৯:৩৯ রাত জুন ২৭, ২০১৯
টেকনাফ বাড়ি
রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফরের বাড়ি ঢাকা ট্রিবিউন

পরিবারের অভিযোগের তীর পুলিশের দিকে। তবে পুলিশ বলছে, বিক্ষুব্ধ জনতা এমনটা করতে পারে।

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী জাফর আহমদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭জুন) ভোর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিলের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে কে বা কারা হামলা ও ভাঙচুরের সাথে কারা জড়িত তা জানা যায়নি। 

জাফরের পরিবার এ ঘটনায় পুলিশকে দায়ী করলেও টেকনাফ থানা পুলিশ তা নাকচ করে দিয়েছে।  

এ বিষয়ে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘‘সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়িতে ভাঙচুরের খবর শুনেছি, তবে কে বা কারা এ ঘটনায় জড়িত তা এখনও জানা যায়নি। তাদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

তবে ওসির ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ জনগণের মনে মাদক কারবারিদের বিষয়ে একধরনের ঘৃণার জন্ম নিয়েছে। আর জাফর আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। হয়তো এই কারণে বিক্ষুদ্ধ জনতা এই ইয়াবা গডফাদারের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। তবে তাদের প্রতিপক্ষ বা দুর্বৃত্তরাও এ ঘটনা ঘটাতে পারে। সবকিছু খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। 



 
রাতের আধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়িটি। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়িটির সীমানা প্রাচীর, প্রধান ফটক, ঘরের দরজা, জানালা ও ভেতরের আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে ফেলা হয়েছে। হামলার সময় কিংবা পরে বাড়ির কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। 

তবে লেঙ্গুরবিল গ্রামের বাসিন্দারা বলেছেন, টেকনাফে ইয়াবাবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে তালিকাভূক্ত ইয়াবা কারবারি জাফর আহমদ ও তার ছেলে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়াসহ পরিবারের সব সদস্য আত্মগোপনে চলে যান। তার দোতলা আলিশান বাড়িতে কেউ থাকেন না। রাতের আঁধারে খালি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, আমরা সকালে দেখেছি।

প্রসঙ্গত, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ সরকারি তালিকাভূক্ত ইয়াবা গডফাদার। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় তার তিন ছেলে- সদর ইউপির চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া, দিদার মিয়া ও মো. ইলিয়াছের নাম রয়েছে। এর মধ্যে, দিদার মিয়া গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ১০২ জন ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পন করেছেন।

সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যান একসময় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি পৌর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন সাংসদ আব্দুর রহমান বদির হাত ধরে তিনি সরকারি দলে যোগ দেন। এরপর এমপি বদির বদন্যতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জাফর।

এদিকে, জাফর আহমদের আরেক ছেলে মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘‘২০০৩ সালে বাবা কষ্টার্জিত টাকায় বাড়িটি গড়েন। তখন তো ইয়াবার ব্যবসা ছিল না। তাহলে কীভাবে ইয়াবার টাকায় বাড়ি নির্মাণ করা হলো?’’ 

রাতের আঁধারে টেকনাফ থানা পুলিশই বুলডোজার দিয়ে তাদের বাড়িটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে তার দৃঢ়বিশ্বাস বলে উল্লেখ করেন রাশেদ।