• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৫ দুপুর

পরীক্ষার হলে ঢুকে অর্ধশত ছাত্রের চুল কাটলেন ২ শিক্ষক

  • প্রকাশিত ০৫:৩৫ সন্ধ্যা জুন ২৯, ২০১৯
ছাত্র নির্যাতন
বগুড়ার ধুনট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে হলে ঢুকে অর্ধশত ছাত্রের মাথার চুল কেটে দিয়েছেন ২ শিক্ষক। ঢাকা ট্রিবিউন

অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি, তারা কোনো অপরাধ করেননি

বগুড়ার ধুনট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে হলে ঢুকে অর্ধশত ছাত্রের মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালের এই ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা পরীক্ষা বর্জন করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ষমধ্য পরীক্ষা চলছে। শনিবার সকালে নবম শ্রেণির গণিত-১ ও দশম শ্রেণির গণিত-২ পরীক্ষা চলছিল। তবে, পরীক্ষা শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট পরে নবম ও দশম শ্রেণির পরীক্ষার হলে ঢোকেন কারিগরি শাখার কম্পিউটার ইন্সট্রাক্টর সাজ্জাদ হোসেন ও রিক্তা আকতার। হলে ঢুকে তারা প্রায় অর্ধশত পরীক্ষার্থীকে প্রথমে গালিগালাজ এবং মারধোর করেন। পরবর্তীতে কাঁচি দিয়ে ওই ছাত্রদের চুল কেটে দেন। এতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

নবম ও দশম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্র জানায়, পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন ও রিক্তা আক্তার কক্ষে ঢুকে তাদের গালিগালাজ ও মারধরের পর কাঁচি দিয়ে মাথার চুল আঁকা-বাঁকা করে কেটে দেন। তাই তারা পরীক্ষা বর্জন করে বাড়িতে চলে যায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ্ হেল বাকী। তিনি দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানে শনিবার এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। ছাত্ররা সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

এদিকে প্রধান শিক্ষক অস্বীকার করলেও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। তবে তাদের এই কর্মকাণ্ডে কোনো অপরাধ হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, "ছাত্ররা মাসের পর মাস চুল কাটেনা; ঠিকমত স্কুলে আসেনা। গত বৃহস্পতিবার সবাইকে চুল কাটতে বলা হয়; অন্যথায় শনিবার ব্যবস্থা নেবার ভয় দেখানো হয়েছিল। কিন্তু কেউ কথা না শোনায় বাধ্য হয়ে ৫০ জনের মাথার সামনের অংশের চুল কেটে দেয়া হয়েছে। এরপর কেউ কেউ পরীক্ষা না দিয়ে বাড়িতে চলে গেছে"।

"আমরা কোনো ছাত্রকে মারধর বা শরীরে আঘাত করিনি। শুধু চুল কেটে দিয়েছি। তাই এটা কোন অপরাধ নয়", দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জিন্নাহ্ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ছাত্রদের মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে"।