• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৬ রাত

শেখ হাসিনার রেলবহরে হামলার ঘটনায় বিএনপির ২৮ নেতাকর্মী কারাগারে

  • প্রকাশিত ০৬:০২ সন্ধ্যা জুন ৩০, ২০১৯
s
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় শেখ হাসিনার রেলবহরে গুলিবর্ষণের মামলায় বিএনপির ২৮ নেতা-কর্মীর জামিন বাতিল করে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে রেলবহর নিয়ে খুলনা থেকে ঈশ্বরদী হয়ে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। 

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রেলবহরে গুলিবর্ষণের মামলায় বিএনপির ২৮ নেতা-কর্মীর জামিন আবেদন বাতিল করেছেন আদালত। 

আজ রোববার স্পেশাল ট্রাইবুনালের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলী উপস্থিত বিএনপির ২৮ নেতা-কর্মীসহ এই মামলার সব আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। 

হাজতে পাঠানো উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এ কে এম আক্তারুজ্জমান আকতার, সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান, আজিজুর রহমান শাহীন প্রমুখ।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার প্রধান আসামি ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু , বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু এবং অন্যতম আসামি পৌর বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবীর দুলাল আদালতে হাজির না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

পাবলিক প্রসিকিউটক (পিপি) আক্তারুজ্জামান মুক্তা জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ সাফাই স্বাক্ষ্য হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসামীপক্ষ কোনো স্বাক্ষী হাজির না করে সময় প্রার্থনা করে আবেদন জানান। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলী সময়ের আবেদন বাতিল করে সোমবার সকাল ১০টায় এই মামলায় যুক্তিতর্ক শুরুর দিন ধার্য এবং হাজির হওয়া ২৮ আসামির জামিন বাতিল করে জেল হাজতে পাঠান। যুক্তিতর্ক শেষ হলে রায় ঘোষণা করা হবে। 

শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে রেলবহর নিয়ে খুলনা থেকে ঈশ্বরদী হয়ে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ট্রেনটি প্রবেশের মূহুর্তে অতর্কির্ত ওই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। স্টেশনে রেলবহর যাত্রা বিরতি করলে আবারো হামলা হয়। এ ঘটনায় দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে শেখ হাসিনা দ্রুত ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন।

পরে রেলওয়ে পুলিশ বাদি হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর পুলিশ মামলাটি পুনঃতদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে নতুনভাবে ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়। মামলাটি দায়েরের পর বছরে এ মামলায় পুলিশ কোনো স্বাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। কিন্তু আদালত সে রিপোর্ট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠান। পরে সিআইডি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

প্রথম চার্জশিটের সাত আসামির বাইরে এ মামলায়  রয়েছেন-ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র শামসুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বিশ্বাস, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক কে.এম.আক্তারুজ্জামান আক্তার, পাকশীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সাহাপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু, সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, রেজাউল করিম শাহীন, আজিজুর রহমান শাহীন, সেলিম আহমেদ, পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, বিএনপি নেতা ইসলাম হোসেন জুয়েল, শহীদুল ইসলাম অটল, আব্দুল জব্বার প্রমুখ। 

আসামিদের মধ্যে গত ২৫ বছরে ওসিয়া, আলী আজগর, খোকন, তুহিন ও আলমগীরসহ সাতজনেরই মৃত্যু হয়েছে। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সোমবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তিতর্ক শেষে যে কোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হবে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা ও গোলাম সাকলাইন এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম গ্যাদাসহ কয়েকজন।