• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০২ রাত

ওসির এসি রুমে রাত কাটালেন ডিআইজি মিজান

  • প্রকাশিত ০২:১০ দুপুর জুলাই ২, ২০১৯
ডিআইজি মিজান
আদালতে নেয়ার সময় ডিআইজি মিজানুর রহমান। ছবি: ফোকাস বাংলা

আদালতে নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘন্টা এই আরামদায়ক কক্ষেই ডিআইজি মিজান অবস্থান করেন

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর পর্যন্ত শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বেশ আরাম আয়েশে রাত কাটিয়েছেন ডিআইজি মিজানুর রহমান।

আদালতে নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘন্টা এই আরামদায়ক কক্ষেই ডিআইজি মিজান অবস্থান করেন বলে বাংলা ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসময় ওসির ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করা ছিল। অনুমতি ছাড়া সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারেননি।

এর আগে সোমবার বিকেলে রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি মিজানকে। পরে সন্ধ্যা ৬ টা ৫৫ মিনিটে তাকে শাহবাগ থানায় আনা হয়। থানায় ওসি আবুল হাসানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তার দেখভালের জন্য ছিলেন অন্তত পাঁচ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। তার দেখভালের বিষয়টি সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধান করেন ওসি নিজে।

এর মধ্যে এসআই পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তা ডিআইজি মিজানের সাথে ওসির ঘরে অবস্থান করছিলেন। এদিকে ডিআইজি মিজানকে নিজের কক্ষ ছেড়ে দেওয়ায় পরিদর্শকের কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ সারেন ওসি আবুল হাসান। এসময় তার সাক্ষাৎপ্রার্থীদের সাথেও তিনি এই কক্ষেই দেখা করেন।

পরে ডিআইজি মিজানের জন্য খাবার এবং ওষুধ নিয়ে আসেন ওসি আবুল হাসানের দেহরক্ষী। এমনকি ডিআইজি মিজানের রাতে থাকার সুবিধার্থে অতিরিক্ত কাপড়েরও ব্যবস্থা করা হয়।

রাত ১১ টার দিকে ডিআইজি মিজানের খবর নিতে থানায় আসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক উর্ধতন কর্মকর্তা। এসময় তিনি ওসির রুমে ডিআইজি মিজানের সাথে একান্তে ২০ মিনিট সময় কাটান। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, "সৌজন্যতার খাতিরে এসেছি। এর বেশি কিছু নয়।"

থানা সূত্রে জানা গেছে, ওই কর্মকর্তা চলে যাওয়ার পর ওসির কক্ষের ভেতরের বিশ্রামকক্ষে ঘুমান ডিআইজি মিজান। মঙ্গলবার খুব ভোরে তিনি ঘুম থেকে ওঠেন এবং ৮ টায় থানার কর্মকর্তাদের এনে দেওয়া খাবার দিয়ে নাস্তা সারেন। পরে সকাল ১০টার দিকে শাহবাগ থানার গাড়িতে করে তাকে আদালতে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে জোর করে বিয়ে করার সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরসহ দুদকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। শুরু হয় তদন্ত।

এর মধ্যে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল খবর প্রচার করে যে, দুর্নীতির মামলা থেকে মুক্তি পেতে ডিআইজি মিজান দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন।

এরপর নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে বিতর্কিত ডিআইজি মিজানকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পরে ২৫ জুন তাকে বরখাস্তের কথা সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।