• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৬ দুপুর

পল্লীবিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার বসানোর প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জে ঝাড়ু মিছিল

  • প্রকাশিত ০৪:২৮ বিকেল জুলাই ২, ২০১৯
মুন্সীগঞ্জ ঝাড়ু মিছিল
পল্লী বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার স্থাপনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে ঝাড়ু মিছিল ঢাকা ট্রিবিউন

গ্রাহকদের অভিযোগ, এই মিটারে দ্বিগুণ বিল গুণতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার বসানোর প্রতিবাদে প্রায় এক মাস ধরে মুন্সীগঞ্জে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, ঝাড়ু মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন সাধারণ জনগণ। তবে এসব কর্মসূচির তোয়াক্কা না করে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ প্রিপেইড মিটার বসানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ আছে, কোনো কোনো বাড়িতে গ্রাহকের অনুপস্থিতিতেই প্রিপেইড মিটার বসানো হচ্ছে। 

পল্লীবিদ্যুতের এ কর্মসূচি রুখতে ইতোমধ্যে ‘সচেতন নাগরিক ঐক্য’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে। এই প্ল্যাটফর্মের আহবায়ক ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন আবির জানান, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের আপত্তি সত্তেও আগের পোস্টপেইড মিটার সরিয়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় প্রিপেইড মিটার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। 

গ্রাহকদের অভিযোগ, এই মিটারে দ্বিগুণ বিল গুণতে হচ্ছে। আগে যেখানে মিটার ভাড়া ছিল ১০ টাকা, সেখানে নতুন মিটার ভাড়া ধরা হয়েছে ৪০ টাকা। এভাবে সবক্ষেত্রেই বেশি বিল নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, পল্লীবিদ্যুতের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশসহ (সিপিবি) কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

এ বিষয়ে সিপিবির মুন্সীগঞ্জ জেলা সভাপতি শ.ম কামাল হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, পোস্টপেইড মিটারে গ্রাহকরা একটু বেখেয়ালি হলেও ডেডলাইনের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে পারে। অনেক সময় মাশুল দিয়ে হলেও গ্রাহক বিল পরিশোধ করতে পারেন। কিন্তু প্রিপেইড মিটারে এমনটা সম্ভব না। সারাদেশে পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২ কোটি। গড়ে ১০০০ টাকা ধরলে মোট দুই হাজার কোটি টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে অগ্রিম জমা হয়ে যাচ্ছে। জনগণের টাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জনগণের কাছে বিক্রি করা হবে, বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ আমাদের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারগুলো পরীক্ষিত নয়। এগুলোতে কোনো ত্রুটি থাকলে গ্রাহকরা কীভাবে বুঝবেন? এতো আন্দোলনের পরেও পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিচ্ছে না।

অভিযোগ আছে, প্রিপেইড মিটার স্থাপনে জনগণের অসহযোগিতার কারণে কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। অনেক জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। 

এসব মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোবারক উল্লাহ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “প্রিপেইড মিটার শুধু মুন্সীগঞ্জে নয়, সারাদেশেই স্থাপন করা হবে। জেলার মধ্যে সদর ও শ্রীনগর উপজেলায় প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। এখানে গ্রাহক আছে ১ লাখ। এর মধ্যে সাড়ে ১১ হাজারের বেশি গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার দেওয়া হয়েছে। প্রিপেইড মিটারে কোনো ক্ষতি নেই, পুরোটাই গ্রাহকের লাভ। কারণ, এতে করে গ্রাহকরা হিসাব করে বিদ্যুৎ খরচ করতে পারবেন। আগের থেকে বিদ্যুতের ব্যবহারে সচেতনতা বাড়বে। অন্যদিকে, রিচার্জ করতেও কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। কারণ বিভিন্ন ব্যাংক, ভেন্ডিং মেশিন, বিকাশ কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চাইলেই রিচার্জ করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, মূলত আগের তুলনায় মিটার ভাড়া বাড়ানোর কারণেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভাড়া কমানোর জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া, বিদ্যুৎ ইউনিটের দামও একই। নতুন মিটারগুলো বুয়েট থেকে পরীক্ষিত এবং আগের মিটারের চাইতে সূক্ষ্মভাবে বিদ্যুত ব্যবহারের হিসাব রাখতে সক্ষম। এরপরেও কোনো গ্রাহকের আগের মিটারের চেয়ে বর্তমান মিটারে বিল বেশি আসছে মনে হলে তিনি বাড়ির ওয়্যারিং পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। কারণ পুরনো ওয়্যারিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ কিছুটা বেশি খরচ হয়।”

মুন্সীগঞ্জে কেউ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে চাইলে তাকে নতুন প্রিপেইড মিটার নিতে হবে। কোনোভাবেই পুরনো পোস্টপেইড মিটার দেওয়া হবে না, বলেও জানান পল্লী বিদ্যুতের এই কর্মকর্তা।